বন্ধ্যত্ব দূরীকরণে আইইউআই: একটি সহজ ও কম খরচের চিকিৎসাপদ্ধতি
বন্ধ্যত্ব দূরীকরণে আইইউআই: সহজ ও কম খরচের চিকিৎসা

বন্ধ্যত্ব দূরীকরণে আইইউআই: একটি সহজ ও কম খরচের চিকিৎসাপদ্ধতি

ইনট্রা-ইউটেরিন ইনসেমিনেশন বা আইইউআই হলো বন্ধ্যত্ব দূরীকরণের একটি সহজ, কম ব্যয়বহুল ও বহুল ব্যবহৃত চিকিৎসাপদ্ধতি। এটি বন্ধ্যত্ব রোগীদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় সমাধান হিসেবে বিবেচিত হয়। সাধারণত, প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসা ও সর্বোচ্চ চিকিৎসা ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশনের (আইভিএফ) মাঝামাঝি একটি প্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে এ চিকিৎসাপদ্ধতিকে। আইইউআই পদ্ধতিতে সাফল্যের হার সাধারণত ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হয়ে থাকে। প্রয়োজনের ভিত্তিতে ৩ থেকে ৬ বার পর্যন্ত আইইউআই চিকিৎসা গ্রহণ করা যেতে পারে, যা রোগীদের জন্য একটি ধারাবাহিক ও কার্যকর বিকল্প হিসেবে কাজ করে।

আইইউআই চিকিৎসার পূর্বশর্ত ও প্রয়োজনীয়তা

আইইউআই চিকিৎসা শুরু করার আগে কিছু পূর্বশর্ত পূরণ করতে হয়। ন্যূনতম একটি ফেলোপিয়ান টিউব খোলা থাকতে হবে, যদিও অনেক ক্ষেত্রে সময়স্বল্পতা থাকলে ফেলোপিয়ান টিউব খোলা নাকি বন্ধ যাচাই না করেও এ চিকিৎসাপদ্ধতি প্রয়োগ করা যেতে পারে। এছাড়াও, অন্তত একটি বা দুটি ডিম্বাণু যথেষ্ট ম্যাচিউর বা বড় হতে হবে। স্বামীর শুক্রাণুর রিপোর্ট কিছুটা খারাপ হলেও আইইউআই করা যায়, যা এই পদ্ধতিকে আরও সহজলভ্য করে তোলে।

কাদের জন্য আইইউআই চিকিৎসা প্রযোজ্য?

আইইউআই চিকিৎসা বিশেষভাবে প্রযোজ্য নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসায় যদি গর্ভধারণ সফল না হয়।
  • স্বামী বা স্ত্রীর কারও সময়ের স্বল্পতা থাকলে, যেমন প্রবাসী স্বামী বা দূরবর্তী জেলায় চাকরি করা। প্রবাসী স্বামীরা শুক্রাণু হিমায়িত করে রেখে যেতে পারেন।
  • দীর্ঘ সময়ের বন্ধ্যত্ব বা স্ত্রীর বয়স বেশি হলে।
  • স্ত্রীর ডিম্বাণুর পরিমাণ কম হলে।
  • স্বামীর শুক্রাণুর রিপোর্টে স্বল্পমাত্রার সমস্যা থাকলে, তবে বেশি সমস্যা থাকলে আইভিএফ/ইকসি চিকিৎসাপদ্ধতি গ্রহণ করা ভালো।
  • স্বামীর সহবাসে অক্ষমতা বা অনেক দিন অন্তর অন্তর সহবাস সম্ভব হলে।
  • স্ত্রীর প্রাথমিক পর্যায়ের এন্ডোমেট্রিওসিস বা জরায়ুমুখে সমস্যা থাকলে।

প্রাথমিক তথ্য ও পরামর্শ

আইইউআই চিকিৎসা একটি সম্পূর্ণভাবে আউটডোরভিত্তিক চিকিৎসা ও তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল। সাধারণত এতে তেমন কোনো ব্যথা লাগে না, যা রোগীদের জন্য আরামদায়ক। এ চিকিৎসায় স্বামীর শুক্রাণু মিডিয়ার মাধ্যমে ওয়াশ করে জীবাণুমুক্ত চিকন প্লাস্টিকের ক্যাথেটার দিয়ে জরায়ুতে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়। এরপর জীবনযাত্রা স্বাভাবিকভাবেই চলবে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সহায়ক ওষুধ নিতে হবে। ডা. শাহীনা বেগম, কনসালট্যান্ট, ইনফার্টিলিটি ও আইভিএফ, বিআরবি হাসপাতাল, ঢাকা, এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়ে থাকেন।