ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জীর্ণ অবস্থা: স্থায়ী স্থাপনার আশ্বাস দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ফুলবাড়িয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে স্থায়ী স্থাপনার আশ্বাস

ফুলবাড়িয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জীর্ণ অবস্থা: স্থায়ী স্থাপনার আশ্বাস

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া পৌর এলাকায় অবস্থিত ফুলবাড়িয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জীর্ণ ও অবহেলিত অবস্থার বিষয়টি সংসদ অধিবেশনে উঠে এসেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুল হাসান গতকাল মঙ্গলবার জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণী নোটিশের মাধ্যমে কেন্দ্রটির দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন। এর জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন।

সংসদে উঠে এলো কেন্দ্রের দুরবস্থা

ফুলবাড়িয়া আসনের সংসদ সদস্য কামরুল হাসান সংসদ অধিবেশনে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘ফুলবাড়িয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি একটি প্রাচীন টিনশেড স্থাপনা, যা জীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এখানে চিকিৎসক না থাকায় নাগরিকরা সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন।’ তিনি চার তলাবিশিষ্ট পাকা স্থাপনা নির্মাণ, বেহাত হওয়া জমি উদ্ধার এবং সীমানাপ্রাচীর তৈরির দাবি জানান। পাশাপাশি, উপজেলার ৫৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকে জনবল সংকট নিরসন এবং ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ২০০ শয্যায় উন্নীত করারও আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া ও আশ্বাস

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সংসদ সদস্যের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর স্বাস্থ্য খাতে কোনো উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি। পূর্ববর্তী সরকারের সীমাহীন দুর্নীতির কারণে অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, ফুলবাড়িয়া উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ১৯৬৫ সালে নির্মিত একটি টিনশেড স্থাপনা, যেখানে গত দেড় দশকে কোনো সংস্কার কাজ হয়নি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতকে যুগোপযোগী করতে বদ্ধপরিকর। আগামী অর্থবছরে ফুলবাড়িয়া উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন শুরু করার বিবেচনাধীন রয়েছে।’ তিনি সরকারের লক্ষ্য সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং প্রত্যেক নাগরিককে মর্যাদার সঙ্গে সেবা প্রদানের কথা উল্লেখ করেন।

কেন্দ্রের বর্তমান অবস্থা ও প্রতিক্রিয়া

ফুলবাড়িয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রায় এক একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হলেও, বেশির ভাগ জমি বেহাত হয়ে গেছে। অবকাঠামোগত সমস্যা এবং চিকিৎসক সংকটের কারণে স্থানীয় নাগরিকরা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। চলতি বছরের ৩ মার্চ প্রথম আলো পত্রিকায় ‘উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি নিজেই যেন অসুস্থ হয়ে ধুঁকছে’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়, যা এই ইস্যুটি জনসমক্ষে নিয়ে আসে।

উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে জীর্ণ অবস্থায় চলা এই কেন্দ্রে নতুন স্থাপনার আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী, এতে আমরা খুশি। আশা করি, দ্রুত এটি বাস্তবায়ন হবে এবং রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হবে।’

সরকারের পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দুর্নীতিমুক্ত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ফুলবাড়িয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পুনর্নির্মাণ এই পরিকল্পনার একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই উন্নয়ন উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংসদে আলোচনার মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামোগত সংকট সমাধানের দিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে এই ঘটনাকে।