পাবনা জেনারেল হাসপাতালে হামের প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় ৬ নতুন রোগী ভর্তি, শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি
পাবনায় হামের প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় ৬ নতুন রোগী ভর্তি

পাবনা জেনারেল হাসপাতালে হামের প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় ৬ নতুন রোগী ভর্তি

পাবনা জেনারেল হাসপাতালে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬ জন হামে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। এতে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ জনে, যার মধ্যে ২১ জন শিশু ও ৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক রোগী রয়েছেন।

হামের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা

ছোঁয়াচে রোগ হামের পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পৃথক দুটি ‘হাম আইসোলেশন কর্নার’ চালু করেছে। হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, জানুয়ারি মাস থেকে আজ পর্যন্ত মোট ১৩৪ জন হাম রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে নমুনা পরীক্ষা করে ৬০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে, এবং কিছু নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

গত ১০ দিন ধরে হাসপাতালে হাম রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত ৯ দিনে মোট ৩৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া ৬ জন অন্তর্ভুক্ত। তবে, এ পর্যন্ত কোনো রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। ভর্তি রোগীদের মধ্যে ১২ জন ছেলেশিশু, ৯ জন মেয়েশিশু এবং বাকি চারজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ রয়েছেন, যাদের বয়স ২২ থেকে ৩৬ বছরের মধ্যে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ

দুপুরে হাসপাতাল পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, শিশু ওয়ার্ড রোগীতে পরিপূর্ণ। শয্যা সংকটের কারণে হাসপাতালের বারান্দাও রোগীতে ভরা। ৩৮ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে বর্তমানে ২০৬ জন রোগী ভর্তি আছেন, যার মধ্যে ২৫ জন হামে আক্রান্ত। তাদের পৃথক আইসোলেশন সেন্টারে রাখা হয়েছে। নিচতলার অন্য একটি আইসোলেশন সেন্টারে প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শিশু আইসোলেশন সেন্টার পূর্ণ হওয়ায় সামনের বারান্দায় বেশ কয়েকজন রোগীকে রাখা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রোগীদের অভিজ্ঞতা ও চিকিৎসকদের মতামত

জেলার বেড়া উপজেলার রূপপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের মো. মোনজেদ মোল্লা এক সপ্তাহ ধরে তার আট মাস বয়সী হাম আক্রান্ত ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালের বারান্দায় রয়েছেন। তিনি জানান, ছেলের জ্বর, ঠান্ডা ও কাশির উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন, পরে শরীরে হাম উঠেছে এবং শ্বাসকষ্টও ছিল, তবে এখন কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

জেলা সদরের আতাইকুলা গ্রামের মনিরা খাতুন দুই দিন ধরে তার পাঁচ বছরের মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে আছেন। তিনি বলেন, মেয়ের হামের সঙ্গে ঠান্ডা কাশি ও জ্বর আছে। হামের টিকা দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা গ্রামের মানুষ, টিকা সম্পর্কে তেমন বুঝি না। কয়েকটি টিকা দিয়েছিলাম, কয়েকটি বাকি ছিল।’

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, এবার হামের চিত্র ভিন্ন। সাধারণত ৯ মাস বয়সে হামের টিকা দেওয়া হয়, কিন্তু এবার হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৯ মাসের কম বয়সী শিশু বেশি। অন্যদিকে, প্রাপ্তবয়স্করাও আক্রান্ত হচ্ছেন। শিশুদের মধ্যে অধিকাংশই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এসেছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে প্রতিদিনই নতুন হাম রোগী আসছে, শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ই। এজন্য দুটি পৃথক আইসোলেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে, যেখানে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের আলাদাভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পাবনার সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘হাম পরিস্থিতি নিয়ে আমরা সতর্ক আছি। জেনারেল হাসপাতালের বাইরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও দু-একজন রোগী আসছে। এসব হাসপাতালেও হামে আক্রান্ত রোগীদের জন্য পৃথক ‘হাম আইসোলেশন কর্নার’ খোলা হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালেই হামে আক্রান্তদের বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে, এবং পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আছে।’