বরিশালে জমি বিরোধের রক্তাক্ত পরিণতি: কলেজছাত্র নিহত, পরিবারের চার সদস্য আহত
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের তীব্রতা চরম রূপ নিয়েছে, যার ফলশ্রুতিতে এক কলেজছাত্র নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হয়েছেন। নিহত সাইদুল ইসলাম সজিব (২৫) বরিশাল সরকারি কলেজের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন, যিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারান। এই হামলায় তার বাবা-মাসহ মোট চারজন আহত হয়েছেন, যারা বর্তমানে বাকেরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
নিহতের বাবা আবুল হোসেন খানের বর্ণনা অনুযায়ী, গত শনিবার সকালে প্রতিপক্ষ মিলন খান ১০ থেকে ১২ জন দেশি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী নিয়ে লোচনাবাদ গ্রামে তাদের বসতবাড়ির সংলগ্ন রেকর্ডিয় জমিতে দোকান ঘর উত্তোলনের কাজ শুরু করেন। জমির মালিকানা নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে উত্তপ্ত কথাবার্তা বলেন মিলন, যা পরবর্তীতে বাগবিতণ্ডায় রূপ নেয়। এই সময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন।
আবুল হোসেন বলেন, "এক পর্যায়ে মিলনের নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। সাইদুলকে রক্তাক্ত করে তারা, যার ফলে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন।" আহত সাইদুলকে প্রথমে বাকেরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে, পরে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে তাকে ঢাকা মেডিক্যালে রেফার্ড করা হয়, যেখানে সোমবার রাত আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
আহত ও মামলার অবস্থা
হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন নিহতের বাবা আবুল হোসেন খান, মা পিয়ারা বেগম, এবং স্বজন হাসান আলী খান ও আয়শা বেগম। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার দুপুরে সাইদুলের লাশ বাকেরগঞ্জের নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এ ঘটনায় আবুল হোসেন খান বাদী হয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় ৮ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন, যা হত্যা মামলায় রূপ নেবে বলে জানা গেছে।
বাকেরগঞ্জ থানার ওসি খন্দকার কে এম সোহেল রানা জানিয়েছেন, "জমি নিয়ে বিরোধে হামলা পাল্টা হামলার ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকেই দুটি মামলা করা হয়েছে। নিহতের বাবার করা মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে এবং আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যেখানে জমি বিরোধের মতো সাধারণ বিবাদ রক্তপাতের দিকে মোড় নিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তারা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
এই হত্যাকাণ্ড শিক্ষার্থী সম্প্রদায়কেও শোকাহত করেছে, কারণ সাইদুল ইসলাম সজিব একজন মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার পরিবার ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে, এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।



