রাজশাহীতে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক, ৬৫% আক্রান্ত শিশুর বয়স ৬ মাসের নিচে
রাজশাহীতে হামের প্রাদুর্ভাব, ৬৫% শিশু ৬ মাসের নিচে

রাজশাহীতে হামের প্রাদুর্ভাব: শিশুদের জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতি

রাজশাহী অঞ্চলে হামের প্রাদুর্ভাব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশের বয়স ছয় মাসের নিচে, যা চিকিৎসকদের জন্য অত্যন্ত চিন্তার কারণ।

হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর হার বৃদ্ধি

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল, যা বিভাগের বৃহত্তম সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র, সেখানে গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৬ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। এছাড়াও, একই সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে দুজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডা. শংকর আরও জানান, হাসপাতালে বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮০ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের নির্ধারিত ‘হাম কর্নার’ এবং সাধারণ শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে, যাতে রোগের বিস্তার রোধ করা যায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিকিৎসকদের বিশ্লেষণ ও উদ্বেগ

সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাহিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু ভর্তির মধ্যে ৩৫ জনের শরীরে হাম রোগ শনাক্ত হয়েছে। এ বছর হামের উপসর্গ নিয়ে ৩০ জন শিশু মারা গেছে। তাদের মধ্যে পজিটিভ আছে একজন। সন্দেহে মারা গেছে ২৯ জন। এ ২৯ জনের টেস্ট করেও হাম পজিটিভ পাওয়া যায়নি।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশের বয়স ছয় মাসের নিচে। যা চিকিৎসকদের জন্য উদ্বেগজনক। এক বছরের ওপরে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা খুবই কম।’ এই পরিসংখ্যানটি হামের টিকা না পাওয়া শিশুদের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থার চাপ

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকে এম মাসুদ-উল-ইসলাম জানান, হাসপাতালে ১২০০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ২৫০০ থেকে ৩৫০০ রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থায় ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। সীমিত জনবল ও অবকাঠামোর মধ্যেও চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু প্রাদুর্ভাবের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে।

ডা. সাহিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘দুটি ওয়ার্ডের কর্নারে আলাদা করে রোগীদের আইসোলেশন করে রাখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে রোগী বাড়লে আমার সেটি দেখবো।’ এই ব্যবস্থা রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হলেও, হাসপাতালের সম্পদ সীমিত হওয়ায় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন, বিশেষ করে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার মাধ্যমে। রাজশাহী অঞ্চলে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।