গাজীপুরে হামের প্রাদুর্ভাবে শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি
গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের লক্ষণ নিয়ে ২৭ শিশু ভর্তি হয়েছে। গত চার দিনে এই শিশুদের ভর্তি করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। হাসপাতালের পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শিশু ওয়ার্ডে শনিবার থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত মোট ২৭ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে।
শিশুদের ভর্তির সময়সূচি ও এলাকা
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। গত শনিবার ৬ জন, রোববার ৭ জন এবং সোমবার ৯ জন শিশু ভর্তি হয়। মঙ্গলবার সকালে আরও ৫ শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। এই শিশুরা গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছে, যার মধ্যে গাজীপুর সদর উপজেলা থেকে ৭ জন, সিটি করপোরেশন থেকে ৬ জন এবং কালীগঞ্জ, শ্রীপুর ও কালিয়াকৈর থেকে ৩ জন করে রোগী ভর্তি হয়েছেন।
লক্ষণ ও অভিভাবকদের অভিজ্ঞতা
হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের স্বজনেরা জানান, কয়েক দিন ধরে জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি এবং দুর্বলতা দেখা দেওয়ার পর তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর থেকে আসা এক শিশুর মা সালেহা বেগম বলেন, ‘প্রথমে জ্বর ছিল, পরে সারা শরীরে দানা বের হয়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করিয়েও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করেছি। এখন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে আছে এবং একটু ভালো আছে।’
অপর এক শিশুর বাবা আবদুল মালেক বলেছেন, ‘দু-তিন দিন ধরে জ্বর কমছিল না। পরে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখানে ভর্তি করার পর ডাক্তাররা নিয়মিত দেখছেন।’
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
হাসপাতালের পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, হামের লক্ষণ নিয়ে ২৭ শিশু ভর্তি হয়েছে এবং তাদের হাসপাতালে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে বলেছেন, বিশেষ করে শিশুদের অপুষ্টি থেকে দূরে রাখা এবং হামে আক্রান্ত রোগীদের অন্যদের থেকে আলাদা রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য সচেতনতা ও প্রতিরোধ
হাম একটি সংক্রামক রোগ যা দ্রুত ছড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের টিকা দেওয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এই রোগ প্রতিরোধের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করছে।



