নিকডুর নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেলেন কিডনি বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ রাশেদ আনোয়ার
দেশের কিডনি চিকিৎসার প্রধান প্রতিষ্ঠান রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজির (নিকডু) নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ রাশেদ আনোয়ার। বুধবার (২৫ মার্চ) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে কী বলা হয়েছে?
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের নিম্নবর্ণিত কর্মকর্তার যোগদানপত্র গ্রহণপূর্বক তার (ডা. রাশেদ আনোয়ার) নামের পার্শ্বে বর্ণিত পদ ও কর্মস্থলে বদলি/পদায়ন করা হলো। এই নিয়োগটি স্বাস্থ্য খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা কিডনি চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
ডা. রাশেদ আনোয়ারের পেশাগত পটভূমি
নিয়োগের আগে ডা. রাশেদ আনোয়ার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস এন্ড ইউরোলজি (নিকডু) এর সহযোগী অধ্যাপক (নেফ্রোলজি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ১৯৬৮ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন এবং চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে, তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি) থেকে নেফ্রোলজিতে এমডি ডিগ্রি লাভ করেন, যা তার বিশেষজ্ঞতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
চিকিৎসা সেবায় তার অবদান
২০০১ সালে সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় যোগদানের পর থেকে ডা. রাশেদ আনোয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য অবদানগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- কিডনি রোগ চিকিৎসা ক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধন
- ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণ ও মানোন্নয়ন
- কিডনি প্রতিস্থাপন কার্যক্রম জোরদারকরণ
গবেষণা ক্ষেত্রেও তিনি সক্রিয় রয়েছেন এবং কিডনি রোগ, ডায়ালাইসিস ও ট্রান্সপ্লান্ট বিষয়ে একাধিক বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধের সহ-লেখক হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়াও, চিকিৎসা শিক্ষায় তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হিসেবে সুপরিচিত, যা তরুণ চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নিয়োগের সম্ভাব্য প্রভাব
এই নিয়োগটি নিকডুর কার্যক্রমে নতুন গতি আনতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন। ডা. রাশেদ আনোয়ারের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কিডনি চিকিৎসা খাতের উন্নয়নে সহায়ক হবে, বিশেষ করে:
- রোগীদের জন্য উন্নত সেবা নিশ্চিতকরণ
- গবেষণা ও উদ্ভাবনী প্রকল্প ত্বরান্বিতকরণ
- দেশব্যাপী কিডনি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তকে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা জাতীয় স্বাস্থ্য নীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ এবং কিডনি রোগীদের জন্য আশার আলো বয়ে আনতে পারে।



