গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অধ্যক্ষ শাহেদা আহমেদের মর্মান্তিক মৃত্যু
গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অধ্যক্ষ শাহেদা আহমেদের মৃত্যু

গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অধ্যক্ষ শাহেদা আহমেদের মর্মান্তিক মৃত্যু

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় নিজ বাড়িতে রান্না করার সময় গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে সৃষ্ট আগুনে দগ্ধ হয়ে ঢাকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মিসেস শাহেদা আহমেদ (৫০) মারা গেছেন। আজ রোববার সকালে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে শাহেদা আহমেদ শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে এসেছিলেন। গত বুধবার সকালে রান্নাঘরে কাজ করতে গেলে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে হঠাৎ করে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের শিখা পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়লে তিনি গুরুতর দগ্ধ হন।

দুর্ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিকিৎসা ও মৃত্যুর পরিস্থিতি

স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, শাহেদা আহমেদের শরীরের প্রায় ৫৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। গত কয়েক দিন তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হলেও রোববার সকালে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্বজন মোতাহার হোসেন বলেন, একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অবশেষে হেরে গেলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ব্যক্তিগত পরিচয় ও পেশাগত জীবন

শাহেদা আহমেদ শ্রীপুরের গাজীপুর ইউনিয়নের গাজীপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সভাপতি জসিম উদ্দিনের স্ত্রী ও গাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডের অক্স ব্রিজ অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২৫ মার্চ তিনি বাড়িতে অগ্নিদগ্ধ হন এবং আজ রোববার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।

এই ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষা ও সামাজিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গ্যাস সিলিন্ডার নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি উঠেছে।