বগুড়ার শেরপুরে ত্রিমুখী সংঘর্ষে ১৫ জন আহত, দুজনের অবস্থা গুরুতর
বগুড়ার শেরপুরে ত্রিমুখী সংঘর্ষে ১৫ জন আহত

বগুড়ার শেরপুরে ত্রিমুখী সংঘর্ষে ১৫ জন আহত, দুজনের অবস্থা গুরুতর

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। শনিবার (২৮ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মির্জাপুর ইউনিয়নের কবরস্থান সংলগ্ন ঢাকা–বগুড়া মহাসড়কে এ ত্রিমুখী সংঘর্ষ ঘটে। শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রইচ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়কে একটি খালি ট্রাক ইউ-টার্ন নেওয়ার সময় দ্রুতগতিতে আসা ঢাকাগামী আলুবোঝাই একটি ট্রাক সেখানে পৌঁছে যায়। দুর্ঘটনা এড়ানোর চেষ্টা করলেও পেছন থেকে আসা আরেকটি ট্রাক সেটিকে জোরে ধাক্কা দেয়। এতে সামনের ট্রাকটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

এসময় পেছন থেকে আসা ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটির পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে একাধিক যানবাহনের ত্রিমুখী সংঘর্ষ ঘটে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান। গুরুতর আহত দুইজনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

যানজট ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা

দুর্ঘটনার কারণে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের এক পাশে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে শত শত যাত্রী ও চালক চরম ভোগান্তিতে পড়েন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মিজানুর রহমান বলেন, "হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে দেখি একের পর এক গাড়ি ধাক্কা খাচ্ছে। মুহূর্তেই চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।"

স্থানীয় বাসিন্দা মোজাফফর হোসেন বলেন, "দুর্ঘটনার পর আমরা দ্রুত গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে তুলি। পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ ছিল।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের বক্তব্য ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ

শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রইচ উদ্দিন বলেন, "দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সড়কে আটকে থাকা যানবাহন সরানোর কাজ চলছে। আপাতত সার্ভিস লেন দিয়ে ধীরগতিতে যান চলাচল করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে।"

এই ঘটনা সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এবং স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।