দেশের হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসা সেবা নিরবিচ্ছিন্নভাবে চালু রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে বাড়তি জ্বালানির আবেদন জানানো হয়েছে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন স্পষ্ট করেছেন। শনিবার (২৮ মার্চ) রাজধানীর শাহবাগে এক অনুষ্ঠান শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।
জরুরি বিভাগে বিদ্যুতের অপরিহার্যতা
স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ‘যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি সারা বিশ্বকে প্রভাবিত করেছে, কারণ বিশ্বজুড়ে তেলের ওপর নির্ভরশীলতা রয়েছে। যদি পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল না থাকে, তাহলে আমাদের হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার, আইসিইউ, সিসিইউ, বেবি কেয়ার ওয়ার্ড এবং লেবার রুমের মতো জরুরি বিভাগগুলোতে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই বিভাগগুলোতে বিদ্যুতের প্রয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে রোগীদের জীবন রক্ষাকারী সেবা ব্যাহত না হয়।
জ্বালানি মজুত ও বিকল্প ব্যবস্থা
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাছে বাড়তি মজুত রাখার জন্য অনুরোধ করেছে বলে মন্ত্রী জানান। ‘আমরা নিশ্চিত করেছি যে এই মজুত রাখা হবে, এবং যদি জ্বালানি সংকট দেখা দেয়, তাহলে ডিজেলের মজুত বাড়িয়ে জেনারেটর ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে,’ তিনি ব্যাখ্যা করেন। এছাড়া, হাসপাতালগুলোতে দুটি করে বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইন টানা হচ্ছে, যাতে একটি লাইন ব্যর্থ হলে অন্যটি থেকে অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ রুমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।
বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও হিলিয়াম গ্যাসের প্রাপ্যতা
হাসপাতালগুলোতে বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে বলেও স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন। ‘এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদ্যুতের ঘাটতি কমানো এবং জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস করা সম্ভব হবে,’ তিনি বলেন। পাশাপাশি, হিলিয়াম গ্যাসের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, এবং প্রয়োজনে অন্য মাধ্যমে আমদানির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে কাজ শুরু করেছি।’
এই উদ্যোগগুলো দেশের স্বাস্থ্য খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে সরকার হাসপাতালের জরুরি সেবাগুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং যেকোনো সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।



