পদ্মায় বাসডুবিতে এক পরিবারের তিন সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু, শোকাহত চিকিৎসক মা
পদ্মায় বাসডুবিতে এক পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যু

পদ্মায় বাসডুবিতে এক পরিবারের তিন সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাসডুবিতে একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় চিকিৎসক ইসরাত জাহান খান হারিয়েছেন তাঁর মা, ছোট ভাই এবং একমাত্র সন্তানকে। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজবাড়ী পৌরসভার দক্ষিণ ভবানীপুর লালমিয়া সড়কে বাবার বাসায় কান্না-আহাজারি করতে করতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

ঈদের ছুটি শেষে গত বুধবার বিকেলে রাজবাড়ী থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাসে ঢাকার মিরপুরের বাসার উদ্দেশে রওনা হন অবসরপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী রেহেনা আক্তার (৬১)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ছেলে আহনাফ তাহমিদ খান (২৫), ছোট মেয়ে নুসরাত জাহান খান এবং বড় মেয়ে ইসরাত জাহান খানের একমাত্র সন্তান তাজবিদ (৭)। বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে গেলে নুসরাত জানালা ভেঙে বের হয়ে মাকেও উদ্ধার করেন, কিন্তু ছোট ভাই ও ভাগনে তাজবিদকে বাঁচাতে পারেননি।

পরিবারের শোক ও প্রতিক্রিয়া

ইসরাত জাহান খান ঢাকা মার্কস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন চিকিৎসক। তাঁর স্বামী মেরিন ইঞ্জিনিয়ার খায়রুল বাশার মোহাম্মদ মুসাব্বির বর্তমানে মিসরের একটি জাহাজে কর্মরত। তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলছিলেন, ‘আমি কেমন করে বাঁচব রে, আল্লাহ কেন আমার ছেলেকে কেড়ে নিয়ে গেল। আমি কী দোষ করেছিলাম আল্লাহ। তুমি আমার সাথে কেন এমন করলা?’। নুসরাত জাহান খান দুর্ঘটনার স্মৃতি ভুলতে পারছেন না এবং মাঝেমধ্যে জেগে উঠে ঘটনা বলছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দুর্ঘটনার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ভবানীপুর লালমিয়া সড়কের বাড়ির সামনে রেহেনা আক্তার, আহনাফ তাহমিদ খান ও তাজবিদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আহনাফের বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুরা জানাজা ধরতে না পারায় দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাজবাড়ী শহরের ভবানীপুর পৌর কবরস্থানে পাশাপাশি কবরে তিনজনকে দাফন করা হয়। আহনাফ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেট ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

পরিবারের অতীত ও বর্তমান অবস্থা

নুসরাতের বড় মামা আউয়াল আনোয়ার জানান, মাত্র চার মাস আগে নুসরাতের বাবা ইসমাঈল হোসেন খান দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর চার মাসের মাথায় স্ত্রী রেহেনা আক্তার ও ছেলে আহনাফ তাহমিদ খানও মারা গেলেন। এখন শুধু বেঁচে আছেন দুই মেয়ে। ঈদের এক দিন পর পরিবারের সবাই আনন্দে মিলিত হয়েছিলেন, যা এখন শুধু স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে।