ফেসবুক পোস্ট নিয়ে বিরোধে কৃষক নেতার মৃত্যু, ঝিনাইদহে উত্তেজনা
ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলায় একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সৃষ্ট দ্বন্দ্ব মেটাতে গিয়ে কৃষক দলের এক নেতার মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার রাত আটটার দিকে উপজেলার কুল্যাগাছা ভাতুড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবুল কাশেম (৪৫) কাপাসহাটিয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং তিনি কুল্যাগাছা ভাতুড়িয়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন।
ঘটনার পটভূমি ও উত্তেজনা
স্থানীয় বাসিন্দাদের বর্ণনা অনুযায়ী, গ্রামের একটি বিষয় নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। গতকাল রাতে এ নিয়ে আবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আবুল কাশেমের বাড়ির পাশে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র ঝগড়া বাধে। কুল্যাগাছা বাজার থেকে বাড়ি ফিরে তিনি পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে আবুল কাশেমের ওপর হামলা করা হয় এবং তিনি কিল–ঘুষিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
হাসপাতালে নেওয়া ও মৃত্যু ঘোষণা
অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। হাসপাতালটির জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জুবায়ের আহমেদ জানান, রাত নয়টার দিকে আবুল কাশেমকে হাসপাতালে আনা হলে তাঁর কোনো পালস পাওয়া যায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, আবুল কাশেমের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
পুলিশের তদন্ত ও বিবৃতি
হরিণাকুন্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া হাসান বলেন, ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে আবুল কাশেমের চাচাতো ভাইদের সঙ্গে প্রতিপক্ষের বিরোধ হয়। আবুল কাশেম বিরোধ মেটাতে গিয়ে চাচাতো ভাইদের বিপক্ষে অবস্থান নেন। পরে দ্বন্দ্ব মেটাতে গিয়ে একটি পক্ষের কিল–ঘুষিতে তিনি অসুস্থ হয়ে মারা যান। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।
এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়রা শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।



