রাজবাড়ীতে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাসচালকের লাশ উদ্ধার, মৃতের সংখ্যা ২৩
পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাসচালকের লাশ উদ্ধার, মৃত ২৩

রাজবাড়ীতে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাসচালকের লাশ উদ্ধার, মৃতের সংখ্যা ২৩

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী সৌহার্দ্য পরিবহণের একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় বাসচালক আরমান খানের (৩১) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত আরমান রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার পশ্চিমখালখোলা গ্রামের আরব খানের ছেলে বলে স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গুজবের জবাব ও চালকের পরিচয়

আরমানের ফুফাতো ভাই জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই গুজব ছড়িয়েছেন যে বাসচালক পান খাওয়ার জন্য বাস থেকে নেমে গেলে হেলপার চালাচ্ছিলেন। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছেন, ঘটনাটি সত্য নয় এবং বাসটি আরমানই চালাচ্ছিলেন। তিনি যুক্তি দেন, যদি আরমান বাস থেকে নেমেই যেতেন, তাহলে তার লাশ কেন পাওয়া যাবে? নাম প্রকাশ না করার শর্তে সৌহার্দ্য পরিবহণের একজন স্টাফও নিশ্চিত করেছেন যে মঙ্গলবারের দুর্ঘটনার বাসটি চালাচ্ছিলেন আরমান এবং তার পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সও ছিল।

মৃতের সংখ্যা ও উদ্ধার কার্যক্রম

এদিকে, এ দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। তলিয়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস কুমার পাল জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে ১১ নারী, চার পুরুষ ও ৮ শিশু রয়েছেন। হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে ১৬ জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আরও ৫টি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া, গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ২টি লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দুর্ঘটনার বিস্তারিত ও উদ্ধার অভিযান

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্র জানায়, বাসটি নদীর ৮০ থেকে ৯০ ফুট গভীরে তলিয়ে যায় এবং একপর্যায়ে পন্টুনের নিচে আটকে যায়। উদ্ধারকারী জাহাজ বাসটি ধীরে ধীরে ওপরে তুলে আনে। বাসটিতে প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে, তবে দুর্ঘটনার সময় তাৎক্ষণিকভাবে ১১ জনের মতো যাত্রী বাস থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন। ঘটনার পরপরই দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নদীতে পড়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধারে কর্তৃপক্ষ জোরালো অভিযান শুরু করে, যা এখনও চলমান রয়েছে।

এই দুর্ঘটনা রাজবাড়ী অঞ্চলে একটি বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে, এবং স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলো নিয়মিতভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, এবং কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত ও সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।