বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হকের ইন্তেকাল, শিক্ষা ও রাজনীতিতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হক ইন্তেকাল করেছেন। রোববার বেলা তিনটায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং অসংখ্য গুণগ্রাহীকে শোকসাগরে ভাসিয়ে তিনি চলে গেছেন।
চিকিৎসা ও শোকের বিবরণ
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের শ্যালক এবং চিকিৎসক আ ন ম নৌশাদ খান জানিয়েছেন, আবদুল হক দীর্ঘদিন ধরে যকৃতের সমস্যায় ভুগছিলেন। গত দুই মাস ধরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে শিক্ষা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জীবন ও কর্মের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
আবদুল হকের জন্ম ১৯৫৭ সালের ৫ নভেম্বর, মিঠামইন উপজেলার কামালপুর গ্রামে। তিনি কিশোরগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, গুরুদয়াল সরকারি কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। শিক্ষাজীবন শেষে তিনি সমাজসেবা ও শিক্ষা বিস্তারে আত্মনিয়োগ করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- তমিজা খাতুন সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, যা তিনি নিজের মায়ের নামে প্রতিষ্ঠা করেন।
- মিঠামইন কলেজ, যার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে এটি তাঁর নামে মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হক সরকারি কলেজ নামকরণ হয়।
এছাড়াও, তিনি মিঠামইন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে রাজনৈতিক দায়িত্বও পালন করেছেন, যা তাঁর বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর বহন করে।
শেষকৃত্য ও সমাধির ব্যবস্থা
আবদুল হকের মরদেহ বর্তমানে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের হিমঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। সোমবার হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তাঁর মরদেহ মিঠামইনে নিয়ে যাওয়া হবে। একই দিন বাদ জোহর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হক সরকারি কলেজ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁকে কামালপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে, যেখানে তাঁর জন্মস্থান ও শেষ বিশ্রামস্থল একই স্থানে মিলিত হবে।
এই মৃত্যু সংবাদ কিশোরগঞ্জ জেলা এবং সারাদেশে শিক্ষা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণকারীদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। আবদুল হকের জীবন ও কর্ম দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় রচনা করেছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।



