হাতিরঝিলে কিশোর রাব্বির ছুরিকাঘাতে মৃত্যু, অভিযান চলছে
হাতিরঝিলে কিশোর রাব্বির ছুরিকাঘাতে মৃত্যু

হাতিরঝিলে কিশোর রাব্বির ছুরিকাঘাতে মৃত্যু, পুলিশের অভিযান চলমান

রাজধানী ঢাকার হাতিরঝিল এলাকায় এক মর্মান্তিক ছুরিকাঘাতের ঘটনায় মো. রাব্বি (১৭) নামের এক কিশোর নিহত হয়েছে। আজ শুক্রবার রাত পৌনে আটটার দিকে মগবাজারের মধুবাগ মাদ্রাসা খেলার মাঠসংলগ্ন গলিতে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহত রাব্বি মগবাজারের আঞ্জুমান হাইস্কুলের দশম শ্রেণির একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল।

পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবন

রাব্বির পৈতৃক বাড়ি পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার ফুলতলা গ্রামে। তার বাবা মো. ফারুক একজন রংমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করেন। বর্তমানে রাব্বি তার পরিবারের সঙ্গে মগবাজারের চেয়ারম্যান গলিতে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করত। দুই ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল জ্যেষ্ঠ সন্তান, যার মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঘটনার বিবরণ

চেয়ারম্যান গলিতে বসবাসকারী রাব্বির এক পরিচিত কাজী সিয়াম আবদুল্লাহ জানান, ইফতারের পর রাব্বি তার দুই বন্ধুকে নিয়ে বাসার কাছেই মধুবাগ খেলার মাঠসংলগ্ন এলাকায় গল্প করতে যায়। সেখানে তারা আড্ডা দিচ্ছিল, এমন সময় ওই এলাকার উজ্জ্বল নামের এক বখাটেসহ পাঁচ-ছয়জন তাদের ঘিরে ধরে। একপর্যায়ে তর্কবিতর্কের মধ্যে রাব্বির বুকে ছুরিকাঘাত করা হয়, যা তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিকিৎসা ও মৃত্যু

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বর্ণনা অনুযায়ী, গুরুতর আহত অবস্থায় রাব্বিকে প্রথমে একটি স্থানীয় কমিউনিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে, রাত পৌনে নয়টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক নিশ্চিত করেছেন যে, রাব্বির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশি তদন্ত ও অভিযান

হাতিরঝিল থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা (ডিউটি অফিসার) উপপরিদর্শক পার্থ সারথি দাস রাত সাড়ে এগারোটার দিকে জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে, জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একটি ব্যাপক অভিযান চলমান রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, স্থানীয় সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এই ঘটনা রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পুলিশ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, তারা ঘটনার তদন্ত জোরদার করেছে এবং নিহতের পরিবারকে ন্যায়বিচার প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।