বরিশাল মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডে দুই রোগীর মৃত্যু, আতঙ্কে আহত কয়েকজন
বরিশাল মেডিকেলে আগুনে দুই রোগীর মৃত্যু, আতঙ্কে আহত

বরিশাল মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড: দুই রোগীর মৃত্যু, আতঙ্কে আহত কয়েকজন

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের পঞ্চম তলায় একটি পরিত্যক্ত সামগ্রী রাখার কক্ষে গতকাল মঙ্গলবার রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ ঘটনায় আতঙ্কের মধ্যে অক্সিজেনের অভাবে দুই রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা।

আগুনের সময় আতঙ্ক ও আহতের ঘটনা

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গতকাল রাত ১১টার পর এ ঘটনা ঘটে। আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়লে রোগী, স্বজন, চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। হুড়োহুড়ি করে নিচে নামতে গিয়ে তিন আনসার সদস্যসহ আরও কয়েকজন আহত হন। মারা যাওয়া দুজন হলেন পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর এলাকার কাজী আতাউর রহমান (৮০) এবং বরিশাল নগরের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বারৈজ্জারহাট এলাকার আবুল হোসেন হাওলাদার (৬৫)।

স্বজনদের অভিযোগ ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

বরিশাল মহানগর পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার কাজী আনসার আলী বলেন, তাঁর বাবা কাজী আতাউর রহমানকে আগুনের আতঙ্কে দ্রুত নিচে নামিয়ে আনার সময় অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু হয়। তিনি অভিযোগ করেন, হাসপাতাল চত্বরে থাকা একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন চাইলেও তা পাওয়া যায়নি। মারা যাওয়া আবুল হোসেন হাওলাদারের ছেলে বলেন, তাঁর বাবা কয়েক দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। আগুনের খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে তিনি বাবাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

প্রথম দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো মৃত্যুর ঘটনা অস্বীকার করলেও পরে দুজনের মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত করে। কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, স্বজনেরা অক্সিজেন সাপোর্ট ছাড়াই গুরুতর রোগীদের স্থানান্তর করায় এ মৃত্যু হতে পারে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় গুরুতর অসুস্থ রোগীদের স্বজনেরা তড়িঘড়ি করে অক্সিজেন সাপোর্ট ছাড়াই তাঁদের নিচে নামিয়ে আনেন, যা মৃত্যুর কারণ হয়ে থাকতে পারে।

ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত ও ব্যবস্থা

ফায়ার সার্ভিসের বরিশাল বিভাগীয় উপপরিচালক আবুল বাশার বলেন, রাত ১১টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে রওনা দেয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় দুটি ইউনিট ফিরিয়ে দেওয়া হয়। একটি ইউনিটের ১৭ সদস্য পঞ্চম তলার মেডিসিন ইউনিটের একটি কক্ষে পুরোনো বেডের ফোম থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেন। প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তিনি বলেন, অসাবধানতাবশত সিগারেটের আগুন থেকে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

হাসপাতালের উপপরিচালক নাজমুল আহসান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে তিন আনসার সদস্য ও একজন ওয়ার্ড মাস্টার আহত হয়েছেন। ঘটনার তদন্তে মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এ জে এম এমরুল কায়েসকে প্রধান করে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় মেডিসিন বিভাগে ভর্তি থাকা ৬৬ জন রোগীকে নিরাপদে হাসপাতালের মূল ভবনে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

আহত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

হাসপাতালের কর্মী ও রোগীরা বলেন, আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পাঁচতলার মেডিসিন ওয়ার্ডে থাকা রোগী ও স্বজনেরা আতঙ্কে দ্রুত বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং কয়েকজন আহত হন। কর্তৃপক্ষ এখন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছে।