বরিশালের শেবাচিম হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড: আতঙ্কে স্থানান্তরে দুই রোগীর মৃত্যু, ছয়জন অসুস্থ
শেবাচিম হাসপাতালে আগুন: দুই রোগীর মৃত্যু, ছয়জন অসুস্থ

বরিশালের শেবাচিম হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড: আতঙ্কে দুই রোগীর মৃত্যু

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম)-এর নতুন ভবনে একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের পঞ্চম তলার একটি স্টোররুমে আগুন লাগে, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। যদিও আগুনে সরাসরি কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, কিন্তু আতঙ্কের মধ্যে স্থানান্তরিত হওয়া দুই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া, আগুন নেভাতে গিয়ে চার আনসার সদস্যসহ মোট ছয়জন অসুস্থ হয়েছেন, যা এই ঘটনাকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে।

আগুনের উৎপত্তি ও প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, মেডিসিন ওয়ার্ড সংলগ্ন একটি কর্নারে রাখা ফোম, চাদর ও বালিশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালের বিভিন্ন তলায় থাকা রোগী, স্বজন, চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। অনেকেই তড়িঘড়ি করে রোগীদের নিয়ে ভবনের বাইরে সড়কে আশ্রয় নেন, যা একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। হাসপাতালের স্টাফ ও স্থানীয়রা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি।

ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা ও নিয়ন্ত্রণ

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ৪০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আবুজর গিফরী জানান, স্টোররুমে দাহ্য সামগ্রী থাকায় দ্রুত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রাথমিকভাবে শর্টসার্কিট বা অসাবধানতাবশত আগুন লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

রোগীদের মৃত্যু ও স্থানান্তরের বেদনাদায়ক বিবরণ

অগ্নিকাণ্ডের সময় স্থানান্তরিত হওয়া রোগীদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে, যা এই ঘটনাকে আরও করুণ করে তুলেছে। তারা হলেন পটুয়াখালীর কাজী আতাউর রহমান (৮০) ও বরিশালের আবুল হোসেন (৬৭)। কাজী আতাউর রহমানের পুত্রবধু সাজেদা পারভীন জানান, ভবনের পঞ্চম তলায় অগ্নিকাণ্ডের সময় তার শ্বশুর চতুর্থ তলায় ভর্তি ছিলেন এবং তার ইনহেলার ও অক্সিজেন প্রয়োজন হতো সর্বদা। কিন্তু তাকে অক্সিজেন ছাড়া নীচে নামানো হয় এবং একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকের কাছে অক্সিজেন চাইলে সে তা দিতে অপরাগতা জানায়, ফলে সময়মতো অক্সিজেনের অভাবে তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, আবুল হোসেনের ছেলে আব্দুল্লাহ জানান, তার বাবা অসুস্থ হয়ে গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে ছিলেন। আগুন লাগার খবরে ৩০ মিনিটের মধ্যে হাসপাতালে এসে তিনি বাবাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান, যা পরিবারের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে এসেছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও ব্যবস্থাপনা

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আবদুল মুনায়েম সাদ বলেন, মেডিসিন ওয়ার্ডের একটি কর্নারে আগুন লাগে এবং দ্রুত রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন। উপ-পরিচালক ডা. নাজমুল আহসান জানান, ভবনের দুটি ইউনিটে প্রায় ১০০ রোগী ভর্তি ছিলেন এবং তাদের সবাইকে নিরাপদে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে, এই স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় দুটি মৃত্যু ঘটায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এই ঘটনা স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে অগ্নি নিরাপত্তা ও জরুরি ব্যবস্থাপনার গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য একটি শিক্ষণীয় বিষয় হতে পারে।