বরিশালের শেবাচিম হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে একজনের মৃত্যু, আহত ৪-৫ জন
বরিশাল হাসপাতালে আগুনে মৃত্যু, আহত ৪-৫

বরিশালের শেবাচিম হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড: একজনের মৃত্যু, আহত ৪-৫ জন

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও চার থেকে পাঁচ জন আহত হয়েছেন, যারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার বিবরণ

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের ওপিডি ভবনের পাঁচ তলার একটি স্টোররুমে আগুন লাগে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, আগুনের সূত্রপাত হওয়ার পর দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এ সময় ভবনে থাকা চিকিৎসাধীন রোগীদের তাড়াহুড়ো করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

নিহত ব্যক্তির নাম আতাহার আলী, যার বয়স ছিল ৮২ বছর। তার ছেলে আনসার আলী জানান, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে তিন দিন আগে তার বাবাকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। আগুন থেকে বাঁচতে নামানোর সময় আতাহার আলী মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আগুন নিয়ন্ত্রণ ও তদন্ত

ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবু জর গিফারী জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে, আগুন ব্যাপক আকার ধারণ করার আগেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

হাসপাতালের জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা স্বপন জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে এবং চিকিৎসা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। তিনি আরও বলেন, আগুনের কারণে হাসপাতালের মূল কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি এবং আহতদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

এই ঘটনায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতাল প্রশাসন জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। তারা হাসপাতালের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা পুনরায় পরীক্ষা করার এবং আগুন নির্বাপণ সরঞ্জামের পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

  • আগুনের সময় রোগীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, যা বড় ধরনের বিপর্যয় রোধ করতে সহায়ক হয়েছে।
  • ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত প্রতিক্রিয়া আগুন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
  • হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নিয়মিত ফায়ার ড্রিল ও নিরাপত্তা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা উচিত।