স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন: মহাখালীতে আইসিইউ চালু
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) পুনরায় চালু করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
হামের প্রাদুর্ভাব ও মন্ত্রীর তৎপরতা
গত কয়েকদিন ধরে হঠাৎ করে মিজলস্ বা হাম রোগের প্রাদুর্ভাব ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হতে শুরু করে। বেড সংখ্যার তুলনায় রোগী বেশি হওয়ায় ফ্লোরে এমনকি বারান্দায়ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে সোমবার (১৬ মার্চ) খুব অসুস্থ একটি শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর মধ্যরাতে সরাসরি হাসপাতালে উপস্থিত হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
এ সময় স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, "আমাদের সুযোগ সুবিধার অপর্যাপ্ততা বা অপ্রতুলতা রয়েছে, তবে চেষ্টার ত্রুটি নেই বা অবহেলা নেই।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় স্থাপিত আইসিইউ বন্ধ ছিল, কিন্তু একদিনের মধ্যে চিকিৎসক, অ্যানেস্থিটিস্ট ও অন্যান্য জনবল পদায়ন বা সংযুক্ত করে আইসিইউ চালু করা হবে।
আইসিইউ চালু ও অতিরিক্ত ব্যবস্থা
মন্ত্রীর এই প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৩ জন চিকিৎসক, ১ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট (এনেস্থিসিয়া) ও ১ জন অ্যানেস্থিটিস্টকে মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে সংযুক্ত করা হয়েছে। আইসিইউ-এর বেড, মেশিনারিজ ইত্যাদি সেট আপ করা হয়েছে এবং এখন রোগীদের জরুরি সেবা দেওয়ার জন্য ৫ বেডের আইসিইউ ইউনিটটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
একইসঙ্গে, যেহেতু সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল মাত্র ১০০ শয্যার এবং সেখানে হামসহ জলাতংক, এইডস, টিটেনাস ইত্যাদি রোগীও ভর্তি থাকে, সে বিবেচনায় পাশ্ববর্তী ডিএনসিসি হাসপাতালেও হাম রোগীদের চিকিৎসার জন্য একটি আলাদা ইউনিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ হাসপাতালের উপর চাপ কমাতে এবং রোগীদের জন্য উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই দ্রুত পদক্ষেপ স্বাস্থ্য খাতে সরকারের প্রতিশ্রুতি ও সাড়া প্রদানের ক্ষমতা তুলে ধরে, বিশেষ করে সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জরুরি পরিস্থিতিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের গুরুত্বকে উজ্জ্বল করে।



