মোটরসাইকেল বিরোধে ছুরিকাঘাতে নিহত আবুল কালাম, আহত দুজন
নাটোর শহরের কান্দিভিটা কদমতলা এলাকায় মোটরসাইকেল রাখা নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধের জেরে আবুল কালাম (৪৮) নামের এক ব্যক্তি ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে কাউসার আলী (২৫) ও মামা শাহীন আলী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও বিবাদ
গতকাল সোমবার রাত দেড়টার দিকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে কান্দিভিটা কদমতলা এলাকায় আবুল কালামের বাড়ির পাশে আল হাফিজ নামের এক ব্যক্তি বাড়ি করেন। রাস্তার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না রেখে বাড়ি করার অভিযোগে উভয়ের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়।
গত শনিবার আবুল কালামের ছেলে কাউসার আলী বাড়ির সামনে মোটরসাইকেল রেখে ভেতরে ঢোকেন। এরপর আল হাফিজের বাড়িতে আসবাবপত্র নিতে গিয়ে মোটরসাইকেলটির একটি সাইড লাইট ভেঙে যায়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয় এবং শেষ পর্যন্ত ক্ষতি পূরণ দেওয়ার শর্তে মীমাংশা হয়।
রাতের হামলা ও মৃত্যু
গতকাল রাত দেড়টার দিকে ওই বাড়ির পাশের একটি চায়ের দোকানে বসে কাউসারের মামা শাহীন আলী চা খাচ্ছিলেন। এ সময় ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ না করা নিয়ে আল হাফিজের সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে আবুল কালাম ও কাউসার সেখানে গিয়ে তর্কে জড়ান।
একপর্যায়ে আল হাফিজের বাড়ির লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। এতে আবুল কালাম, কাউসার ও শাহীন গুরুতর আহত হন। তাঁদের প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেওয়ার পথে আবুল কালামের মৃত্যু হয়। অন্য দুজনকে সেখানে ভর্তি করা হয়েছে।
চিকিৎসক ও পুলিশের বক্তব্য
নাটোর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক সুব্রত ঘোষ জানান, ওই তিনজনের শরীরে গুরুতর আঘাত ছিল। তবে আবুল কালামের প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল, যা তাঁর মৃত্যুর কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তিনি জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। তবে তাঁদের আটকের চেষ্টা চলছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই ধরনের ছোটখাটো বিরোধ প্রায়ই এলাকায় দেখা যায়, কিন্তু এত ভয়াবহ পরিণতি বিরল। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
