ভারতের ওড়িশায় হাসপাতালের আইসিইউতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ১০ রোগীর মৃত্যু
ভারতের হাসপাতালে আগুন, ১০ রোগীর মৃত্যু

ভারতের ওড়িশায় হাসপাতালের আইসিইউতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ১০ রোগীর মৃত্যু

ভারতের ওড়িশা রাজ্যের কটক শহরে অবস্থিত এসসিবি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে এবং ১১ জন হাসপাতাল কর্মী আহত হয়েছেন। ঘটনাটি সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে ভোররাত ২টা ৩০ মিনিট থেকে ৩টার মধ্যে সংঘটিত হয়।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওড়িশার কটক শহরের এসসিবি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারের আইসিইউতে আগুন লেগে এই বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। হাসপাতালটি রাজ্য পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। দুর্ঘটনার সময় আইসিইউতে অন্তত ২৩ জন রোগী ছিলেন, যাদের মধ্যে ১০ জনের মৃত্যু ঘটে। আহত ১১ জন কর্মীর মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা সঙ্কটজনক বলে জানানো হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত

দুর্ঘটনার পর ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন এবং সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। তিনি জানান, সম্ভবত বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। মাঝি উল্লেখ করেন যে, ট্রমা সেন্টারের আইসিইউতে থাকা ২৩ রোগীকে সরিয়ে নেওয়ার সময় গুরুতর অসুস্থ সাতজনের মৃত্যু হয় এবং পরে আরও তিনজন মারা যান।

তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা কর্মী ও নিরাপত্তা সদস্যরা তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের উদ্ধার করার চেষ্টা করেছেন। এমনটি করার সময় তারা নিজেরাও আহত হয়েছেন। তারাও এখন চিকিৎসাধীন আছেন।’ এই ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জরুরি প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তদন্তের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আহত ও মৃতদের অবস্থা

এই দুর্ঘটনায় নিহত ১০ জন রোগী সবাই আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং আগুন লাগার পর তাদের সরানোর সময় মৃত্যু হয়। আহত ১১ জন কর্মীর মধ্যে পাঁচজন গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন, যা হাসপাতালের কর্মী সদস্যদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ এখন আহতদের চিকিৎসা ও নিহতদের পরিবারকে সহায়তা প্রদানে কাজ করছে।

এই ঘটনা ভারতের স্বাস্থ্যসেবা খাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারীর পর আইসিইউগুলোর গুরুত্ব বৃদ্ধি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে। কর্তৃপক্ষ এখন ঘটনার কারণ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে।