নোয়াখালীতে ব্যবসায়ী রনজিত কুরীর লাশ পুকুরে ভাসা, ছিনতাই ও চাঁদার ঘটনা তদন্তাধীন
নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীর লাশ পুকুরে, ছিনতাই-চাঁদার ঘটনা তদন্তে

নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীর লাশ পুকুরে ভাসা, ছিনতাই ও চাঁদার ঘটনা তদন্তাধীন

নোয়াখালীতে নিখোঁজের দুই দিন পর প্রতিবেশীর বাড়ির একটি পুকুর থেকে রনজিত কুরী নামে এক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৪ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিরামপুর এলাকার হেঞ্জু মিয়ার বাড়ির পুকুর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত রনজিত কুরী (৫৩) একই ওয়ার্ডের গোপাই রামশংকর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি বাঁধেরহাট বাজারে ওষুধের ব্যবসা করতেন।

নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ও পরিবারের উদ্বেগ

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে রনজিত কুরীর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তার মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে শুক্রবার সুধারাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার স্ত্রী শিল্পী রানী কুরী। সকালে স্থানীয় লোকজন কাশিরামপুর এলাকার হেঞ্জু মিয়ার বাড়ির পুকুরে একটি লাশ ভাসতে দেখেন। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানালে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে বিকালে লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ছিনতাই ও চাঁদার ঘটনার বিস্তারিত

রনজিত কুরীর স্ত্রী শিল্পী রানী কুরী উল্লেখ করেন, তার স্বামী বুধবার রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান পাননি। নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন আগে বাঁধেরহাট বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে দত্তেরহাট এলাকায় ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা টাকাপয়সা নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। ওই ঘটনার পর একই এলাকার এক ব্যক্তি তাদের বাড়িতে এসে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা নেন। চাঁদা দেওয়ার পর বুধবার রাতে তার স্বামী নিখোঁজ হন এবং আজ তার লাশ পাওয়া যায়।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের বক্তব্য

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, ছিনতাইয়ের ঘটনার পর রনজিত কুরী পরিচিতজনদের বিষয়টি জানান। পরে বাড়িতে এসে চাঁদা নেওয়ার বিষয়টিও তাদের জানান এবং এ বিষয়ে সহযোগিতা চান। তাকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার আগেই নিখোঁজ হন। পরে লাশ উদ্ধার করা হয়। যে পুকুরে লাশ পাওয়া গেছে, সেখানে তার যাওয়ার কথা নয় বলেও জানান স্থানীয় লোকজন। সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘লাশের শরীরে আঘাতের কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহত ব্যক্তি আগে থেকে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ছিনতাইয়ের শিকার হওয়া বা বাড়ি থেকে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়ার বিষয়টিও তদন্তে রাখা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।’