ভালুকায় ইফতারির বিরিয়ানিতে ফুড পয়জনিং: অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ, ১০ জন গুরুতর
ভালুকায় ইফতারির বিরিয়ানিতে ফুড পয়জনিং, অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ

ভালুকায় ইফতারির বিরিয়ানিতে ফুড পয়জনিং: অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় একটি জুতার কারখানার ইফতারিতে বিরিয়ানি খেয়ে অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটে, যেখানে অসুস্থ বেশ কয়েকজন শ্রমিককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি এলাকার চেচুয়ার মোড়ে অবস্থিত গ্লোবাল সুজ কোম্পানিতে এই ঘটনা ঘটেছে। কারখানা শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, রোজার শুরু থেকেই কারখানার মালিকপক্ষ ইফতারের জন্য শ্রমিকদেরকে প্রতিদিন বিরিয়ানি খাওয়াতেন। বৃহস্পতিবার শ্রমিকদের ইফতারের জন্য সিডস্টোর বাজারের খান হোটেল থেকে সাদা ও হলুদ রংয়ের বিরিয়ানি আনা হয়।

ইফতারের সময় বিরিয়ানি খাওয়ার পর শ্রমিকরা বমি ও শরীর দুর্বল হয়ে একের পর এক অসুস্থ হয়ে পড়েন। কারখানার পুরো মেজেতে অসুস্থ শ্রমিকরা অচেতন হয়ে পড়ে থাকেন। কারখানা কর্তৃপক্ষ একটি হাইওয়ে মিনি বাস যোগে অসুস্থ শ্রমিকদেরকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে চিকিৎসা ও চ্যালেঞ্জ

একসঙ্গে ৩০ থেকে ৩৫ জন রোগী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীদের চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়। হাসপাতালে রোগীদের আনার পর বেশিরভাগ অসুস্থ শ্রমিক দুর্বল পড়ে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ১০ জনকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, কারণ ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসিও সাপোর্ট না থাকায় তাদের উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল।

শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য

কারখানা শ্রমিক শেফালি আক্তার জানান, "ইফতারের সময় আমাদেরকে হলুদ ও সাদা রংয়ের বিরিয়ানি দেওয়া হয়। সাদা রংয়ের বিরিয়ানি যারা খেয়েছেন, তারাই বমি, পেট জ্বলা ও শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে অজ্ঞান হয়ে গেছেন।"

কোম্পানির সুইং ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বলেন, "অ্যাডমিন বিভাগ থেকে আমাদের ফ্লোরে বিরিয়ানি সরবরাহ করা হয়। সেই বিরিয়ানি খেয়ে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়েন।"

জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মেহদী হাসান জানান, "এসব রোগী সম্ভবত ফুড পয়জনিংয়ে অসুস্থ হয়ে থাকতে পারে। আমাদের এখানে আইসিও সাপোর্ট না থাকায় ১০ জনকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।"

পরিস্থিতির মূল্যায়ন

এই ঘটনা শ্রমিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। ফুড পয়জনিংয়ের মতো ঘটনা প্রতিরোধে খাদ্য সরবরাহের মান নিশ্চিত করা জরুরি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।