নরসিংদীর শিবপুরে জমি বিরোধে শিক্ষকের মৃত্যু: ১৮ দিন পর পঙ্গু হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস
জমি বিরোধে শিক্ষকের মৃত্যু: নরসিংদীর শিবপুরে হামলা

নরসিংদীর শিবপুরে জমি বিরোধে শিক্ষকের মৃত্যু: ১৮ দিন পর পঙ্গু হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিবেশীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত শিক্ষক আবু ছাঈদ মোগলের (৭০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কুপিয়ে ‘পায়ের রগ কেটে দেওয়ার’ ১৮ দিন পর গতকাল বুধবার সন্ধ্যার দিকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) তাঁর মৃত্যু হয়।

শিক্ষক আবু ছাঈদ মোগলের পরিচয় ও হামলার ঘটনা

আবু ছাঈদ মোগল একই উপজেলার মোল্লাকান্দা গ্রামের জামাল উদ্দিন মোগলের ছেলে এবং শাষপুর কাজী মফিজ উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ছিলেন। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মোল্লাকান্দা গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন তিনি।

আবু ছাঈদের পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিবেশী স্বপন মোগলের সঙ্গে তাঁদের একটি কৃষিজমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে ওই জমিতে গেলে আবু ছাঈদের মেয়ে রোকেয়া লিপিকে বাধা দেন স্বপন। একপর্যায়ে রোকেয়াকে মারধর করেন। তাঁর চিৎকারে আবু ছাঈদ ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে স্বপন ও তাঁর ছোট ভাই কিরণ মোগল দা দিয়ে কুপিয়ে ছাঈদের বাম পায়ের রগ কেটে দেন।

চিকিৎসা ও মৃত্যুর বিস্তারিত বিবরণ

ওই সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গেলে স্বপন ও কিরণ পালিয়ে যান। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় ছাঈদকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ১৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ছাঈদ মোগলের মেয়ে রোকেয়া লিপি বলেন, ‘১৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল সন্ধ্যায় বাবা মারা গেছেন। তাঁর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে আছে। তাঁকে যাঁরা কুপিয়ে মেরেছেন, তাঁদের বিচার চাই। শুনেছি, কক্সবাজার থেকে তাঁরা দুজন (স্বপন ও কিরণ) গ্রেপ্তার হয়েছেন।’

পুলিশি তদন্ত ও গ্রেপ্তার

ওই হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে বলে জানান শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কোহিনুর মিয়া। তিনি বলেন, এ মামলায় এজাহারভুক্ত দুই আসামি স্বপন মোগল ও কিরণ মোগল গত মঙ্গলবার রাতে কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তারের পর তাঁরা আপাতত কক্সবাজার সদর থানা হেফাজতে আছেন। তাঁদের হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসিত হচ্ছে। পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছেন।