হবিগঞ্জ কারাগারে কয়েদির মৃত্যু: কর্তৃপক্ষের জ্বর-খিঁচুনি দাবি, পরিবারের হত্যার অভিযোগ
হবিগঞ্জ কারাগারে কয়েদির মৃত্যু: জ্বর দাবি, হত্যা অভিযোগ

হবিগঞ্জ কারাগারে কয়েদির রহস্যজনক মৃত্যু: কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের বক্তব্যে বৈপরীত্য

হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে রাসেল মিয়া (২৭) নামের এক কয়েদির মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। কারাগার কর্তৃপক্ষের দাবি, জ্বর থেকে খিঁচুনি হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এ মৃত্যুকে হত্যা বলে তীব্র অভিযোগ উঠেছে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

কারাগার কর্তৃপক্ষের বর্ণনা

হবিগঞ্জ জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলার বনগাঁও গ্রামের বাসিন্দা রাসেল মিয়া একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে ৫ জানুয়ারি থেকে এই কারাগারে আটক ছিলেন। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে তাঁকে কারাগারের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে তাঁকে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলা মো. বিলাল উদ্দিন বলেন, "নিহত রাসেল মিয়া জ্বরে ভুগছিলেন। এ জন্য তাঁকে কারাগারের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা করানো হচ্ছিল। সকালে হঠাৎ জ্বর থেকে খিঁচুনি শুরু হলে তিনি মারা যান।" হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ফাইকা রহমান জানান, ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর সঠিক কারণ এ মুহূর্তে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

পরিবারের হত্যার অভিযোগ

রাসেল মিয়ার মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁর বাবা আতিক মিয়াসহ পরিবারের সদস্যরা বেলা একটার দিকে হবিগঞ্জ কারাগারে ছুটে আসেন। আতিক মিয়া দাবি করেন, তাঁর ছেলে কারাগারে সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল এবং তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, "মঙ্গলবার রাতে আমার ছেলে মুঠোফোনে তার মায়ের সঙ্গে কথা বলেছে। সে সময় সে জানায় যে সে ভালো আছে। রাত পোহাতেই হঠাৎ মৃত্যুর খবর আসে। আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।" কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি এই অভিযোগ উত্থাপন করেন।

পরবর্তী পদক্ষেপ ও তদন্ত

এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। পরিবারের হত্যার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। কারাগার কর্তৃপক্ষ দাবি করছে যে তারা নিয়মিত চিকিৎসা সেবা প্রদান করেছিল, কিন্তু পরিবারের বক্তব্যে তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

এই ঘটনা কারাগারে কয়েদিদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা স্বচ্ছ তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানাচ্ছেন। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা আইনানুগ সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে এবং তদন্তে সহযোগিতা করবে।