পিরোজপুরের ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতাল লিফট ছাড়াই চালু হতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) সকালে পিরোজপুরে জেলা হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির এক সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দৈনিক যুগান্তরে ৮ মার্চ ‘ভবন প্রস্তুত, সেবা আটকে আছে চার লিফটে’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
লিফটের অপেক্ষা না করে চালু হবে হাসপাতাল
প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর সুমন বলেছেন, রোগীদের দুর্ভোগ কমাতে লিফট ছাড়াই স্বল্প পরিসরে পিরোজপুর ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতাল চালু করা হবে। আগামী ৩০ এপ্রিল অথবা ১৫ মের মধ্যে হাসপাতালের ৪টি ফ্লোর চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈশ্বিক যুদ্ধ প্রস্তুতির কারণে লিফট আসতে সময় লাগছে, এবং নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে আগামী আগস্ট মাসে লিফট আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই লিফট আসার অপেক্ষা না করে এপ্রিল-মে মাসের মধ্যেই চারটি ফ্লোর স্বাস্থ্যসেবার জন্য চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
চিকিৎসক নিয়োগ ও যন্ত্রপাতি স্থানান্তর
সভায় প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, চিকিৎসক স্বল্পতা বাংলাদেশের প্রতিটি হাসপাতালে বিদ্যমান থাকলেও, আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রয়োজন বিবেচনায় চিকিৎসক নিয়োগ এবং সমস্যাযুক্ত যন্ত্রপাতি স্থানান্তর করে একটি ভালো সেবা নিশ্চিত করার আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন যারা
জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ, সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল আউয়াল, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান, সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমতসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এই সভায় হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
হাসপাতালের নির্মাণ ইতিহাস
২০১৭ সালে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম এই হাসপাতালটিকে আড়াইশ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা দেন। পিরোজপুর গণপূর্ত বিভাগ টেন্ডারের পর ৭ তলা ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়, যা পরে আরও ২ তলা সম্প্রসারণ করা হয়। প্রাথমিকভাবে ২০২০ সালের জুনে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারীর কারণে তিন দফা সময় বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ভবন নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়।
নির্মাণ কাজ শেষ হলেও গত দুই বছরে লিফট সংযোগ না দেওয়ায় ভবনটি হস্তান্তর করা যায়নি। এর ফলে বর্তমান ১০০ শয্যার হাসপাতালে ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ রোগী ভর্তি নিয়ে ডাক্তার, নার্স, রোগী ও তাদের স্বজনদেরকে দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। নতুন হাসপাতাল চালু হলে এই সমস্যা অনেকাংশে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, লিফট ছাড়াই হাসপাতাল চালু করা একটি অস্থায়ী সমাধান, যা রোগীদের জন্য দ্রুত সেবা নিশ্চিত করবে। আগস্ট মাসে লিফট আসার পর পূর্ণাঙ্গ সেবা প্রদান সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগটি স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
