বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালের নাম পরিবর্তন: কন্টিনেন্টাল হাসপাতাল পিএলসি হিসেবে ফিরছে
বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতাল লিমিটেড এখন থেকে 'কন্টিনেন্টাল হাসপাতাল পিএলসি' নামে পরিচালিত হবে। চার দশক আগে যে নামে হাসপাতালটির যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেই নামেই আবার ফিরে গেল প্রতিষ্ঠানটি। এই নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশেই বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিদেশনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যকে সামনে রেখেছে।
নাম পরিবর্তনের পেছনের কারণ ও লক্ষ্য
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, দেশেই বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিদেশনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যকে সামনে রেখে নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি হাসপাতালটির দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
হাসপাতালটির ইতিহাস ও বিবর্তন
১৯৮৫ সালে 'কন্টিনেন্টাল হাসপাতাল' নামে প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধিত হয়। পরে ২০০৪ সালে এটি একটি বেসরকারি লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়। ২০০৬ সালে 'ইউনাইটেড হাসপাতাল লিমিটেড' হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে। এই নাম পরিবর্তনটি প্রতিষ্ঠানটির মূল শিকড়ের দিকে ফিরে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বক্তব্য
হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মালিক তালহা ইসমাইল বলেন, 'আমাদের শিকড় শক্তিশালী, ভিত্তি মজবুত এবং কমিউনিটির প্রতি আমাদের দায়িত্ব অটুট। আমরা এমন একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যার জন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গর্বিত হবে। আমরা জাতীয় ও আঞ্চলিক উভয় স্তরের প্রতিটি ধাপেই স্বাস্থ্যসেবার উৎকর্ষ, উদ্ভাবন এবং বিশ্বাসের সঙ্গে নেতৃত্ব দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।'
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই নাম পরিবর্তনটি প্রতিষ্ঠানটির অতীতের গৌরবময় ঐতিহ্যকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুতির একটি অংশ। হাসপাতালটি তার সেবার মান আরও উন্নত করতে এবং রোগীদের জন্য আরও সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রভাব
এই নাম পরিবর্তন বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি দেশীয় চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়ন এবং আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির দিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। প্রতিষ্ঠানটি আশা করে যে, এই পরিবর্তন রোগীদের মধ্যে আরও আস্থা ও বিশ্বাস তৈরি করবে এবং দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
