ভিকারুননিসা নূন স্কুলের শিক্ষার্থীকে লঞ্চে ধর্ষণ: দুজন গ্রেফতার
রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১১ মার্চ) ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনার বিবরণ
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৮ মার্চ রোববার দুপুরে নোয়াখালী জেলার হাতিয়া তমুরদ্দিন লঞ্চঘাট থেকে ফারহান-০৪ নামক লঞ্চের ৩২৮ নম্বর কেবিনে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে ভিকটিমকে উঠিয়ে দেন তার বাবা। একই সময় ওই লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে লঞ্চে উঠেন মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন (২৬) ও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু (৩২)।
লঞ্চ ছাড়ার কিছু সময় পরে তারা ভিকটিমের কেবিনের দরজা নক করে এবং তারা তার বাবাকে চেনেন বলে জানায়। এরপর তারা মোটরসাইকেল ক্রয়ের টাকা নিরাপত্তার স্বার্থে ভিকটিমের কেবিনে রাখার অনুরোধ করলে, ভিকটিম সরল বিশ্বাসে তাদের টাকা কেবিনে রাখেন।
ধর্ষণের ঘটনা
এজাহারে বলা হয়, পরে তারা কৌশলে কেবিনের মধ্যে প্রবেশ করে ভিকটিমের বেডে বসে পড়ে। কথাবার্তা বলার একপর্যায়ে মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন ভিকটিমকে কূ-প্রস্তাব দিলে, ভিকটিম রাজি না হওয়ায় অভিযুক্তরা তার গলা ও মুখ চেপে ধরে। তখন মিঠু ভিকটিমের কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে কেবিন থেকে বের হয়ে যায়।
এ সময় মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন কেবিনের দরজা বন্ধ করে ভিকটিমকে ধর্ষণ করেন। ভিকটিম ডাক-চিৎকার করার চেষ্টা করলে, সাকিব ঘটনা কাউকে জানাইলে তাকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়ে কেবিন থেকে বের হয়ে যান।
পরে রাত ৮টার দিকে সাকিব ও মিঠু আবারও কেবিনে প্রবেশ করলে, ভিকটিম চিৎকার করার চেষ্টা করলে তারা ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে তাকে আবার ধর্ষণ করে। বর্তমানে ভিকটিম ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পুলিশের পদক্ষেপ
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ্ মো. ফয়সাল আহমেদ বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের টিম অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। গতকাল রাতে তাদের নামে মামলা সম্পন্ন হয়েছে।”
মামলাটি ঘটনার পর দ্রুত তদন্ত ও গ্রেফতারের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের কার্যকর ভূমিকা তুলে ধরেছে। ভিকটিমের পরিবার ন্যায়বিচারের আশা করছে এবং সমাজে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে।
