গোপালগঞ্জে আইফোন ও নগদ টাকার লোভে শিক্ষার্থী হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা
গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলায় একটি আইফোন ও নগদ টাকার লোভে সিয়াম (১৮) নামের এক শিক্ষার্থীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তদন্তে নেমেছে।
মরদেহ উদ্ধার ও তদন্তের বিস্তারিত
সোমবার (৯ মার্চ) গভীর রাতে মুকসুদপুর উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের একটি পুকুরের কচুরিপানার নিচ থেকে সিয়ামের গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। মুকসুদপুর থানার এসআই মোবারক হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সিয়াম মুকসুদপুর সরকারি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং বাঁশবাড়ীয়া গ্রামের লিখন মিয়ার ছেলে ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদকের টাকা জোগাড় করার উদ্দেশ্যে সিয়ামকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার চার বন্ধুকে সন্দেহ করা হচ্ছে। গত শনিবার অভিযুক্তরা সিয়ামকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় এবং নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে। হত্যার পর সিয়ামের ব্যবহৃত দামি আইফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা ও বিক্রয়
হত্যার পর মরদেহটি বাঁশবাড়ীয়া হাসপাতালের পেছনে কাশবন সংলগ্ন একটি পুকুরে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে অভিযুক্তরা ছিনিয়ে নেওয়া আইফোনটি বোয়ালিয়া গ্রামের এক ব্যক্তির কাছে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। সিয়ামের পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি গত ৭ মার্চ থেকে নিখোঁজ ছিলেন এবং খোঁজাখুঁজির পর পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়।
গ্রেফতার ও স্বীকারোক্তি
মুকসুদপুর থানার এসআই মোবারক হোসেন বলেন, সিয়ামের দুই বন্ধু পারভেজ মুন্সী ও দিদার মুন্সী হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সোমবার রাতে পুকুরে তল্লাশি চালায় এবং রাত ১১টার দিকে লাশ উদ্ধার করে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং অন্যান্য জড়িতদের গ্রেফতার ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।



