মুন্সিগঞ্জে কথাকাটাকাটিতে গুলিবিদ্ধ ১৪, নারী-শিশুদের হাসপাতালে পুলিশি নিরাপত্তায়
মুন্সিগঞ্জে গুলিবিদ্ধ ১৪, নারী-শিশুদের হাসপাতালে পুলিশি নিরাপত্তায়

মুন্সিগঞ্জে কথাকাটাকাটিতে গুলিবিদ্ধ ১৪, নারী-শিশুদের হাসপাতালে পুলিশি নিরাপত্তায়

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় এক ভয়াবহ হামলায় নারী, শিশুসহ একই পরিবারের ১৪ জন আহত হয়েছেন। গত রোববার রাত সাড়ে নয়টার দিকে রুদ্রপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে, যেখানে আহতদের মধ্যে ১৩ জন গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায় এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত নয়টার দিকে মিজান খান হেলমেট পরে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় হারুন খান ও মান্নান খান তাঁকে হেলমেট পরে মোটরসাইকেল চালাতে নিষেধ করেন, যা নিয়ে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে হারুন ও তাঁর সহযোগীরা মিজানকে মারধর করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ি ফিরে মিজান ঘটনাটি পরিবারের সদস্যদের জানান।

মিজানের বাবা খোরশেদ খান ছেলের অবস্থা দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে হারুন ও মান্নানের নাম ধরে গালিগালাজ করলে, হারুন ও মান্নান ১০-১৫ জনকে নিয়ে মিজানদের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় শটগান দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়া হয়, যাতে বাড়িতে থাকা নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ১৩ জন গুলিবিদ্ধ হন। আহত ব্যক্তিরা হলেন মিজান খান, তাঁর মা মিনু বেগম, ফুপু জয়তন বেগম ও শাফি বেগম, বাবা খোরশেদ খান, চাচা ইদ্রিস খান, ফুফাতো বোন ফাহিমা, ভাবি কাজল বেগম, নুপুর আক্তার ও বর্ণা আক্তার এবং ভাতিজা আয়ান ও মোস্তাকিন, ভাতিজি দোলন ও ইভা আক্তার।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিকিৎসা ও পুলিশি ব্যবস্থা

শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শংকর কুমার পাল জানান, গত রাত ১২টার পর নারী-শিশুসহ ১৪ জন চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসেন, যাদের মধ্যে ১৩ জনের শরীরে গুলির চিহ্ন ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত রফিকুল খানের অভিযোগ, এলাকায় হারুন ও মান্নান মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং হেলমেট পরা কাউকে দেখলে পুলিশ ভেবে ভয় পান, তাই কাউকে হেলমেট পরে মোটরসাইকেল চালাতে দেন না।

পরে রাত ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত হারুন, মান্নান ও মহসিনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি একনলা বন্দুক ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে, যা বৈধ বলে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আতঙ্ক ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

ঘটনার পর রুদ্রপাড়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হামলাকারী ব্যক্তিরা কাউকে হাসপাতালে নিতে দিচ্ছিলেন না, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপে আহতরা চিকিৎসা পেয়েছেন, তবে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি উঠেছে।

এই ঘটনা মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ের একটি গুরুতর সহিংসতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা স্থানীয় সম্প্রতি ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। কর্তৃপক্ষের কঠোর ব্যবস্থা ও তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।