স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হঠাৎ পরিদর্শনে জাতীয় মানসিক হাসপাতালে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা উন্মোচিত
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হঠাৎ পরিদর্শনে মানসিক হাসপাতালে অনিয়ম

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হঠাৎ পরিদর্শনে জাতীয় মানসিক হাসপাতালে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা উন্মোচিত

রাজধানীর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতালে হঠাৎ করে একটি পরিদর্শন চালিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। রোববার, ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে সকালে এই পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়, যা হাসপাতালের নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা সামনে নিয়ে এসেছে।

পরিদর্শনে উন্মোচিত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ

পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালের ভেতরে নোংরা বিছানা, তেলাপোকা, ছারপোকা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন। এই দৃশ্যগুলো তাদের চোখে পড়ায় তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "এখানে যিনি সরকারের কাছে দায়বদ্ধ আছেন, তিনি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারছেন না।" তার এই মন্তব্য হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় গুরুতর ত্রুটি নির্দেশ করে।

লিডারশীপ সঙ্কট ও অব্যবস্থাপনার কথা স্বীকার

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত পরিদর্শনকালে উল্লেখ করেন যে, দেশের সর্বোচ্চ মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতালে লিডারশীপ সঙ্কট বিদ্যমান। তিনি বলেন, "সেই সাথে অব্যবস্থাপনাও আছে, যা রোগীদের সেবার মানকে প্রভাবিত করছে।"

তবে, এই সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি আরও যোগ করেন, "এ হাসপাতালকে অন্য সকল হাসপাতালের চাইতে আরেকটু বেশি মানবিক হতে হবে, কারণ এখানে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হয়।"

পরিদর্শনের প্রেক্ষাপট ও প্রতিক্রিয়া

এই হঠাৎ পরিদর্শনটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদারকি বৃদ্ধির অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা এবং পরিবেশগত সমস্যাগুলো প্রকাশ্যে আসায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন জবাবদিহিতার মুখোমুখি।

  • পরিদর্শনে নোংরা বিছানা ও পোকামাকড়ের উপস্থিতি নথিভুক্ত করা হয়েছে।
  • হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্বে ঘাটতি চিহ্নিত করা হয়েছে।
  • স্বাস্থ্যমন্ত্রী দ্রুত সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা রোগীসেবা উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

এই ঘটনা স্বাস্থ্য খাতের তদারকি ও উন্নয়নের গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে, বিশেষ করে মানসিক স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে, যা প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে।