স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অভিযানে কালিগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসক অনুপস্থিত, ওয়ার্ডে নেই সাবান
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সর্দার সাখাওয়াত হোসেন বকুল শনিবার কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি অভিযান চালিয়েছেন। এই অভিযানে হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি, ছুটি অনুমোদনে অসঙ্গতি এবং হাসপাতাল সেবার নানা ঘাটতি ধরা পড়েছে।
অপ্রত্যাশিত আগমন ও অনুপস্থিত চিকিৎসক
মন্ত্রী সকাল প্রায় ১০টায় হাসপাতালে অপ্রত্যাশিতভাবে উপস্থিত হয়ে সরাসরি ভবনে প্রবেশ করেন। তিনি চিকিৎসকদের উপস্থিতি রেজিস্টার সংগ্রহ করে কনফারেন্স রুমে পর্যালোচনা করেন। পরিদর্শনে দেখা যায়, চারজন চিকিৎসক অনুপস্থিত ছিলেন এবং তাদের কেউই ছুটির আবেদন জমা দেননি। মন্ত্রীর আকস্মিক আগমনের খবর পেয়ে প্রায় ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে কয়েকজন চিকিৎসক হাসপাতালে আসেন। দেরিতে আসার কারণ জিজ্ঞাসা করলে তারা বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করেন এবং পরে মন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চান।
ওয়ার্ড পরিদর্শন ও সেবার ঘাটতি
মন্ত্রী পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড পরিদর্শন করে ভর্তি রোগীদের কাছ থেকে চিকিৎসা সেবা সম্পর্কে মতামত নেন। তিনি লক্ষ্য করেন যে ওয়ার্ডের টয়লেটে হ্যান্ডওয়াশ বা সাবানের ব্যবস্থা নেই। বাজেট বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের মৌলিক সুবিধা না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ভুল স্বীকার করে নেন।
রোগী ও কর্মচারীদের অভিযোগ
মন্ত্রী বহির্বিভাগের রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন, যারা স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি এসব অভিযোগ রেকর্ড করেন এবং হাসপাতাল কর্মচারীদের দাবিগুলোও শুনে নোট করে নেন।
ফার্মেসি পরিদর্শন ও প্রতিশ্রুতি
পরিদর্শনের সময় তিনি হাসপাতালের ফার্মেসি পরিদর্শন করে বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ নথিভুক্ত করেন। তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
সতর্কবার্তা ও নতুন নির্দেশনা
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মন্ত্রী জানান, এখন থেকে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর পরিদর্শনের আগে পূর্বাভাস দেওয়া হবে না। "এখন থেকে পূর্বাভাস ছাড়াই পরিদর্শন করা হবে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে," বলেন তিনি।
তিনি হাসপাতাল কর্মীদের জন্য কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না বলে সতর্ক করেন এবং তাদের সময়মতো দায়িত্বে উপস্থিত হতে হবে বলে উল্লেখ করেন। গ্রামীণ হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে ঢাকায় বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে না; বরং চিকিৎসকদের তাদের কর্মস্থলের কাছাকাছি থাকতে হবে যাতে তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
মন্ত্রীর এই অভিযান সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকি জোরদার করার ইঙ্গিত দেয় এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কঠোর পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করে।
