যশোরে সাত বছরের শিশুকে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ধর্ষণের অভিযোগ
যশোরে একটি মর্মান্তিক ঘটনায় সাত বছরের এক শিশুকে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার বিবরণ ও গ্রেফতার
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে শিশুটিকে গুরুতর অবস্থায় যশোর জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। অভিযুক্ত হাফিজুল ইসলাম (৪০) শিশুটির দূর সম্পর্কের নানা হিসেবে চিহ্নিত। তিনি সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা এবং বর্তমানে যশোর মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন।
পুলিশ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে হাফিজুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিকালে আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
নানির বর্ণনা ও চিকিৎসা অবস্থা
নির্যাতিত শিশুটির নানি জানান, তার নাতনি যশোরে তার বাড়িতে থেকে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। সোমবার বিকালে হাফিজুল শিশুটিকে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ভুলিয়ে তার ভাড়া বাড়িতে নিয়ে যায় এবং পাশবিক নির্যাতন চালায়।
রাত ৯টার দিকে শিশুটিকে ফেরত দেওয়ার পর সে নির্যাতনের কথা জানায়। এরপর মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে নানি তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়েত জানান, শিশুটি গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এবং শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ ও আইনী পদক্ষেপ
যশোর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার ঘটনাটি জানার পর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটকের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর এবং আমরা দ্রুত আইনী পদক্ষেপ নিয়েছি।"
এই ঘটনা শিশু নির্যাতন ও নারী সুরক্ষা বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। স্থানীয় সম্প্রদায় ও কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসা পেয়েছে।
