কুমিল্লায় ২৭ দিন বয়সী শিশু বিক্রি ও অপহরণের নাটকের অভিযোগ, মা গ্রেপ্তার
কুমিল্লায় শিশু বিক্রি ও অপহরণ নাটকের অভিযোগ

কুমিল্লায় ২৭ দিন বয়সী শিশু বিক্রি ও অপহরণের নাটকের অভিযোগ

কুমিল্লার দেবিদ্বারে একটি মর্মান্তিক ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে ২৭ দিন বয়সী একটি কন্যাশিশুকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে পরে অপহরণের নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে মায়ের বিরুদ্ধে। পুলিশের তদন্ত এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে, যা স্থানীয় সম্প্রদায়কে স্তম্ভিত করেছে।

ঘটনার বিবরণ

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে আকলিমা বেগম নামের এক মা তার নবজাতক কন্যা হাফসাকে চিকিৎসার অজুহাতে দেবিদ্বার উপজেলা সদরে নিয়ে যান। সেখানে তিনি এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে বিক্রি করেন। এরপর, তিনি বুড়িচং উপজেলার সাবের বাজার এলাকায় সড়কের পাশে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকেন এবং 'সন্তান অপহরণ'-এর গল্প প্রচার করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা এই দৃশ্য দেখে দেবপুর ফাঁড়ি পুলিশকে সতর্ক করলে, পুলিশ আকলিমা বেগমকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়। তবে, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ একটি গভীর তদন্ত শুরু করে।

তদন্ত ও শিশুর উদ্ধার

প্রায় ৩৫ ঘণ্টা পর, শুক্রবার রাতে শিশুটিকে দত্তক নেওয়া দম্পতি আবু সাঈদ ও তার স্ত্রী পুলিশের সহায়তায় শিশুটিকে ফিরিয়ে দেন। আবু সাঈদ জানান, শিশুটিকে নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার পর সংবাদ মাধ্যমে 'শিশু অপহরণ'-এর খবর দেখে তিনি সন্দিহান হয়ে পড়েন এবং পরে সত্যতা জেনে পুলিশের মাধ্যমে শিশুটিকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেন।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, মা স্বেচ্ছায় সন্তান বিক্রি করে অপহরণের নাটক সাজিয়েছেন। সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে পুলিশ শিশুটিকে সফলভাবে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।

মায়ের বক্তব্য ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট

আকলিমা বেগম, যিনি দেবিদ্বার পৌরসভার বড়আলমপুর গ্রামের দিনমজুর কামাল হোসেনের স্ত্রী, তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, হাসপাতালে এক নার্স তার মেয়ের শারীরিক সমস্যার কথা বলে তাকে নিরুৎসাহিত করেন এবং শিশু বিক্রির জন্য প্ররোচনা দেন। তবে, তিনি দাবি করেন যে বিক্রির টাকা তাৎক্ষণিকভাবে পাননি।

অন্যদিকে, শিশুটির বাবা কামাল হোসেন বলেন, তিনি দিনমজুরি করে সংসার চালান এবং সন্তানের লালন-পালনে কোনো অভাব ছিল না। তিনি তার স্ত্রীর এমন সিদ্ধান্ত সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলেন বলে জানান।

এই ঘটনা শিশু অধিকার এবং পারিবারিক নিরাপত্তা সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে, এবং পুলিশ এখন আইনি পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শিশু সুরক্ষা নীতিগুলি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।