নওগাঁর পত্নীতলায় গৃহবধূ খুন: স্বামীকে আটক, হত্যা মামলা
নওগাঁয় গৃহবধূ খুন, স্বামী আটক

নওগাঁর পত্নীতলায় গৃহবধূ খুন: স্বামীকে আটক, হত্যা মামলা দায়ের

নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলায় এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার বেলা ১১টার দিকে নজিপুর ইউনিয়নের উজিরপুর চৌধুরীপাড়া এলাকায় ওই গৃহবধূর নিজ বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত গৃহবধূ প্রতিমা রাণীর বয়স ছিল ২৪ বছর।

ঘটনার পটভূমি

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতের কোনো এক সময়ে দাম্পত্য কলহের জেরে ওই গৃহবধূ তার স্বামীর হাতে খুন হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের প্রেক্ষিতে শুক্রবার রাতে রুটি বানানোর বেলুন দিয়ে স্ত্রীর কপালে আঘাত করেন স্বামী প্রদীপ চৌধুরী। সেই আঘাতে অচেতন হয়ে বিছানায় পড়ে যান প্রতিমা রাণী।

এ অবস্থাতেই স্ত্রীকে নিয়ে রাত্রীযাপনের পর সকালে প্রদীপ লক্ষ করেন যে প্রতিমা রাণী মারা গেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে সে বাড়ি থেকে পার্শ্ববর্তী একটি শ্মশানঘাটে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পর প্রতিমার মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা পুলিশকে সংবাদ দেয়।

পুলিশের তৎপরতা

পত্নীতলা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, “সংবাদ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে থানা পুলিশের একটি টিম পাঠিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”

মরদেহ উদ্ধারের পর পার্শ্ববর্তী এলাকার শ্মশানঘাট থেকে ওই গৃহবধূর স্বামী প্রদীপ চৌধুরীকে আটক করে পুলিশ। তার বয়স ৩৭ বছর। পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, নিহতের পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রদীপ চৌধুরীকে আটক করা হয়েছিল। প্রতিমা রাণীর বাবা নরেশ চৌধুরী বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

পরবর্তী পদক্ষেপ

পুলিশ এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে, যা ঘটনার সঠিক কারণ ও দায় নির্ধারণে সহায়তা করবে। স্থানীয়রা এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ বলেছে, আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মামলাটির তদন্ত চলছে এবং দোষী সাব্যস্ত হলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।