গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে স্কুল শিক্ষিকা শামসুন্নাহার রুমার মরদেহ উদ্ধার, হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে
গাইবান্ধায় স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার, হাত-পা বাঁধা অবস্থায়

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার, হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় এক স্কুল শিক্ষিকার মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে শহরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকার একটি বাসা থেকে পুলিশ শামসুন্নাহার রুমা (৩৯) নামের এই শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার করে।

হাত-পা বাঁধা ও গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মরদেহ

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারের সময় রুমার হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ছিল এবং গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিলো। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে শ্বাসরোধে করে হত্যা করা হয়েছে। গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক নিশ্চিত করেছেন যে মরদেহটি হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং ঘটনাস্থলে ক্রাইম সিন ইউনিট কাজ করছে।

শিক্ষিকার পরিচয় ও পারিবারিক অবস্থা

শামসুন্নাহার রুমা গোবিন্দগঞ্জের চণ্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি উপজেলার ফুলবাড়ী গ্রামের সোলাইমান আলী মাস্টারের কন্যা। স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর রুমা একমাত্র ছেলেকে নিয়ে বাবার মালিকানাধীন ওই বাসায় থাকতেন। বর্তমানে পড়াশোনার কারণে তার ছেলে ঢাকায় অবস্থান করায় তিনি একাই ছিলেন বলে জানা গেছে।

তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ

এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। ওসি মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, ঘটনাস্থলে ক্রাইম সিন ইউনিটের তদন্ত চলছে এবং এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে, তবে সুনির্দিষ্ট কারণ ও অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে আরও তদন্ত প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।