রাজধানীতে কাটা হাত-পা উদ্ধার: ফিঙ্গারপ্রিন্টে নিহতের পরিচয় শনাক্ত
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদ ও স্কাউট ভবন এলাকা থেকে দুটি কাটা হাত এবং একটি কাটা পা উদ্ধার করেছে পল্টন থানা-পুলিশ। পরবর্তীতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি শুক্রবার দিবাগত রাত ও শনিবার সকালে ঘটে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
উদ্ধারকৃত দেহের অংশের বিবরণ
পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল খান জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে স্কাউট ভবনের সামনের রাস্তা থেকে একটি কাটা পা উদ্ধার করা হয়। এরপর শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ ও উত্তর গেটের মাঝামাঝি এলাকার রাস্তা থেকে দুটি কাটা হাত পাওয়া যায়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে এবং দেহের অংশগুলো সংগ্রহ করে।
ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষায় নিহত শনাক্ত
ওসি মোস্তফা কামাল খান আরও জানান, উদ্ধারকৃত হাতের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে নিহত ব্যক্তিকে ওবায়দুল্লাহ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, যার বাড়ি নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলায়। পুলিশের ধারণা, এই হাত ও পা ওবায়দুল্লাহর দেহের অংশ, এবং বর্তমানে দেহের বাকি অংশ উদ্ধারের জন্য ব্যাপক তদন্ত ও অনুসন্ধান কার্যক্রম চলছে।
ময়নাতদন্ত ও তদন্তের অগ্রগতি
উদ্ধারকৃত দেহের অংশ বিশেষ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে। এদিকে, পল্টন থানা-পুলিশ নিহতের পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নিচ্ছে এবং ঘটনার পেছনের কারণ ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত জোরদার করেছে। স্থানীয়রা এই মর্মান্তিক ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত বিচার কামনা করছেন।
এই ঘটনা রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশ উচ্চপদস্থ সূত্রে জানা গেছে, তারা সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষাসহ অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহে ব্যস্ত রয়েছেন। আশা করা হচ্ছে, শীঘ্রই এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
