নাটোরে পুলিশ কর্মকর্তার পুত্রের হাতে পিস্তল থেকে গুলি, এসআই আহত
নাটোর পুলিশ লাইনসে এক দুর্ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) দেওয়ান মামুন হোসেন গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার রাত ৯টার দিকে তাঁর নিজ বাসায় শিশুপুত্র পিস্তল নিয়ে খেলার সময় হঠাৎ ট্রিগারে চাপ লেগে গুলি বের হয়ে এসআই মামুনের পায়ে লাগে। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন এবং দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরিত করা হয়।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
আহত এসআই দেওয়ান মামুন হোসেন (৩২) নাটোর পুলিশ লাইনসে কর্মরত ছিলেন। গতকাল রাত ৯টার দিকে দায়িত্ব পালন শেষে তিনি বাসায় ফেরেন এবং নিজের পিস্তলটি বিছানায় রেখে শৌচাগারে যান। এ সময় তাঁর শিশুপুত্র পিস্তলটি নিয়ে খেলছিল। শৌচাগার থেকে বের হয়ে এসআই মামুন ছেলের কাছ থেকে পিস্তলটি নিতে গেলে হঠাৎ ট্রিগারে চাপ লেগে গুলি বের হয়ে তাঁর পায়ে লাগে।
ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন এবং আহত এসআইকে দেখতে সদর হাসপাতালে গিয়েছিলেন।
পুলিশ প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি অস্ত্র ব্যবহারে নিরাপত্তা ও সতর্কতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন। আহত এসআই মামুনের পায়ে গুলি লেগেছে, তবে তিনি এখন শঙ্কামুক্ত বলে জানানো হয়েছে।
পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনা পুলিশ বাহিনীতে অস্ত্র সংরক্ষণ ও ব্যবহার নিয়ে নতুন করে সচেতনতা তৈরি করেছে। প্রশাসনিক পর্যায় থেকে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসা অবস্থা ও সামগ্রিক প্রভাব
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা আহত এসআই মামুনের চিকিৎসা করছেন। তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল এবং শঙ্কামুক্ত বলে জানানো হয়েছে। তবে এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং পুলিশ পরিবারের মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশ কর্মকর্তাদের অস্ত্র সংরক্ষণে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিশুদের নাগালের বাইরে অস্ত্র রাখা এবং নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
