পটুয়াখালী কারাগারে অসুস্থ হয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু
পটুয়াখালী জেলা কারাগারে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পথে দুমকি উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম খানের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টার দিকে বুকে ব্যথা অনুভব করে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে বিকাল ৫টার দিকে সেখান থেকে বরিশালে পাঠানো হয়, তবে পথিমধ্যেই তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাই
শফিকুল ইসলাম খানের ভাই জাহিদুল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কারাগারে থাকা অবস্থায় এর আগেও কয়েকবার অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন শফিক খান। পারিবারিক সূত্র থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে, যা এই ঘটনার পটভূমি আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
গ্রেফতার ও কারাগারে অবস্থান
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১১ আগস্ট উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম খানকে (৩৮) অপারেশন ডেভিল হান্টের আওতায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই মামলায় জামিন হওয়ার পর ফের পটুয়াখালী সদর থানার দুটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। তখন থেকেই তিনি কারাগারে ছিলেন, যা তার স্বাস্থ্য সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট তৈরি করে।
কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
পটুয়াখালী জেলা কারাগারের জেলার মো. আব্দুর রব মিয়া বলেন, কারাগারে অসুস্থতা অনুভব করলে হাজতি শফিকুল ইসলামকে প্রথমে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখান থেকে বরিশালে নেওয়ার সময় পথিমধ্যে মারা যান তিনি। পরবর্তী প্রক্রিয়া বরিশাল কারা কর্তৃপক্ষ সম্পন্ন করবে, যা এখনও চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মুহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন জানান, বরিশাল হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে জীবিত পাননি। পথিমধ্যেই মারা যান তিনি, এবং লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনায় কারাগারের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
ঘটনার প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
এই মৃত্যু ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে ছাত্রলীগ ও রাজনৈতিক মহলে। শফিকুল ইসলাম খানের পরিবার ও সহযোগীরা এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। কারাগারে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু এমন ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে আরও কয়েকবার ঘটেছে, যা কারাগারের স্বাস্থ্য সেবার মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে। কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
