কক্সবাজারে এলপিজি স্টেশনে বিস্ফোরণ: ৬ জন দগ্ধ, ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
কক্সবাজারে এলপিজি বিস্ফোরণে ৬ জন দগ্ধ, ৩ জন আশঙ্কাজনক

কক্সবাজারে এলপিজি স্টেশনে বিস্ফোরণ: ৬ জন দগ্ধ, ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার ডলফিন মোড়ে অবস্থিত একটি এলপিজি ফিলিং স্টেশনে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণে দগ্ধ ছয় জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে তাদের চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

দগ্ধদের পরিচয় ও অবস্থা

দগ্ধরা হলেন– আবু তাহের (৪০), সিরাজ (২৫), আব্দুর রহিম (৩৯), সাকিব (২২), মোতাহের (৪৫) ও আবুল কাশেম। চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক জানান, কক্সবাজার থেকে দগ্ধ অবস্থায় ছয় জনকে আনার পর তাদের হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

চমেক হাসপাতাল বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মো. রাশেদ উল করিম বলেন, কক্সবাজার থেকে আসা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছয় জন পুরুষ রোগীর সবারই শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের শরীর প্রায় ৯০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। এর মধ্যে তিন জনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

বিস্ফোরণের বিস্তারিত ও ক্ষয়ক্ষতি

জানা গেছে, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কলাতলীর এন আলম এলপিজি ফিলিং স্টেশনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অন্তত ১৬ জন দগ্ধ হন। আগুনে ফিলিং স্টেশনের পাশের একটি গ্যারেজে থাকা প্রায় ২০ থেকে ২৫টি পর্যটকবাহী জিপ (চাঁদের গাড়ি) এবং ১০টি ঘর-বাড়ি পুড়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, ফিলিং স্টেশনের ১৪ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার একটি গ্যাস ট্যাংক থেকে দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস লিকেজ হচ্ছিল। সেই লিকেজ থেকেই বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ

ডা. মো. রাশেদ উল করিম আরও বলেন, ৫০ শতাংশ ও ৯০ শতাংশ দগ্ধ দুই রোগীকে ইতোমধ্যে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্য রোগীদের অবস্থাও সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে তাদেরও আইসিইউ সাপোর্ট দেওয়া হবে।

এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং বিস্ফোরণের সঠিক কারণ অনুসন্ধানের জন্য তদন্ত চলছে।