নারায়ণগঞ্জ বন্দরে মারামারিতে মাছ ব্যবসায়ীর মৃত্যু, তুচ্ছ ঘটনার জের
নারায়ণগঞ্জ বন্দরে মারামারিতে মাছ ব্যবসায়ীর মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জ বন্দরে মারামারিতে মাছ ব্যবসায়ীর মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত মারামারিতে দুলাল মিয়া (৬০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার কেওডালা ওভারবাগ এলাকায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। নিহত দুলাল মিয়া ওই এলাকার জসিম মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন এবং পেশায় তিনি একজন মাছ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

ঘটনার সূত্রপাত ও বিবরণ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে বন্দর থানাধীন কেওডালা এলাকার মো. ইব্রাহিমের বাড়ির ছাদে মোহাম্মদ ওসমান গনি (২০) নামে এক যুবক এবং তার এক বন্ধু অবস্থান করছিলেন। ওই সময় তাদের অপর বন্ধু সাজিদ (২০) পাশের বাড়ির ছাদে উঠে দুষ্টুমির ছলে ওসমানের ঘাড়ের ওপর থাপ্পড় দেয়। এতে ওসমান রাগান্বিত হয়ে সাজিদকে পাল্টা থাপ্পড় দেয়, যা দুজনের মধ্যে হাতাহাতির সূচনা করে।

এই ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যার দিকে সাজিদ এবং তার ৫-৬ জন আত্মীয়-স্বজন লাঠিসোঁটা ও দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ইব্রাহিমের ভাড়া বাড়িতে হামলা চালায়। তারা ওসমান ও তার বাবা দুলাল মিয়া (৫৬), মা পারুল বেগমকে (৪০) মারধর করে। পরে বাড়িওয়ালা ও আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর ওসমানের বাবা মো. দুলাল মিয়া অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাকে উদ্ধার করে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহত পরিবারের বক্তব্য ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া

ওসমান গনি বলেন, ‘ওদের মারধরের ফলে আমার বাবা অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। আমি আমার বাবার হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার চাই এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা করছি।’

ঘটনাস্থলে যাওয়া বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু'পক্ষের মারামারিতে দুলাল আহত হলে তাকে হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি।’

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে লাশ পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে এবং আমরা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানানো হচ্ছে। মারামারির মতো সহিংস ঘটনা এড়াতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।