বগুড়ায় মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ব্যাংক কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু, পরিবারের হত্যার দাবি
বগুড়ায় মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু

বগুড়ায় মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ব্যাংক কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু

বগুড়া জেলার সদর উপজেলার সাবগ্রাম এলাকায় অবস্থিত মায়ের আশ্রয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে সামিউল হাসান শুভ (৩৩) নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা রহস্যজনকভাবে মারা গেছেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মৃত শুভ উপজেলার কাজীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং জনতা ব্যাংক দুপচাঁচিয়া শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

পরিবারের বক্তব্য ও ঘটনার বিবরণ

নিহতের দুলাভাই এ.টি.এম. ফরহাদ সোহাগ জানান, চলতি মাসের ১৩ ফেব্রুয়ারি মানসিক সমস্যার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে শুভকে কেন্দ্রটিতে ভর্তি করা হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, শুভ মাদকাসক্ত ছিলেন না, বরং এক মাস আগে ডাকাতির শিকার হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। মঙ্গলবার রাতে নিরাময় কেন্দ্র থেকে ফোন পেয়ে তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

ফরহাদ সোহাগ আরও বলেন, "মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ নিরাময় কেন্দ্র থেকে ফোন করে জানানো হয়, শুভর শারীরিক অবস্থা খারাপ এবং তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আমাদেরও সেখানে যেতে বলা হয়। পরে হাসপাতালে গিয়ে আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পাই।"

হত্যার সন্দেহ ও শারীরিক চিহ্ন

মৃতের চাচাতো ভাই তাপস জানান, হাসপাতালে গিয়ে লাশের ডান হাত ও পাঁজরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। পরিবারের ধারণা, তাকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশের তদন্ত ও ব্যবস্থা

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তফা মঞ্জুর জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া, মাদক নিরাময় কেন্দ্রের কর্মী হুমায়ুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশ দ্রুত তদন্ত চালিয়ে আসল সত্য উদঘাটনের আশ্বাস দিয়েছে।