কক্সবাজার সদর হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারা হলো রামু ফতেখাঁরকুল এলাকার আতিকুর রহমানের আট মাস বয়সী ছেলে মিজানুর রহমান ও মিঠাছড়ি এলাকার মো. জাভেদের ছয় মাস বয়সী মেয়ে ওয়াজিফা। গতকাল রোববার রাতে হাসপাতালের হাম ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ দুই শিশুর মৃত্যু হয়। আগের দিন একই ইউনিটে মারা গেছে নুর ফাহাদ নামে ছয় মাস বয়সী এক রোহিঙ্গা শিশু।
হাসপাতালে রোগীর চাপ
দুই শিশুর মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (এএমও) শান্তনু ঘোষ। তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৯ শিশু। হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছে। ২০ শয্যার এই ইউনিটে একটি শয্যায় তিন-চারটি শিশু রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
নিহত শিশুদের পরিবারের বক্তব্য
নিহত মিজানের বাবা আতিকুর রহমান বলেন, কয়েক দিন ধরে তাঁর ছেলে সর্দি, জ্বর ও কাশিতে ভুগছিল। স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে জ্বরের ওষুধ খাওয়ান। অবস্থার অবনতি হলে গত ২৪ এপ্রিল কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা–নিরীক্ষার পর হামের লক্ষণ শনাক্ত করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাত ৯টার দিকে সে মারা যায়।
নিহত ওয়াজিফার বাবা মো. জাভেদ বলেন, সর্দি–জ্বর বেড়ে গেলে মেয়েকে গতকাল রোববার সকালে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষার পর হাম শনাক্ত হলে হাম ইউনিটে ভর্তি করা হয়। কিন্তু রাত সাড়ে ৯টার দিকে মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।
জেলায় হামের পরিসংখ্যান
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল ৩ মে পর্যন্ত জেলায় মোট ১ হাজার ৪৫২ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। বেশির ভাগ আক্রান্ত শিশু রামু, মহেশখালী, কক্সবাজার পৌরসভা, উখিয়া, চকরিয়া এলাকার। আক্রান্ত শিশুদের ৮০ শতাংশকে আগে হামের টিকা দেওয়া হয়নি। গত এক মাসে (২৯ মার্চ থেকে ৩ মে পর্যন্ত) আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৯৯ শিশু। একই সময়ে (এক মাসে) মারা গেছে ১৩ শিশু। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রামুতে ৬, কক্সবাজার পৌরসভায় ২, মহেশখালীতে ১, কুতুবদিয়ায় ১, সদর উপজেলায় ১, উখিয়ায় ১ ও রোহিঙ্গা ১ শিশু মারা গেছে।
বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রোগী
জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে আজ সোমবার ভর্তি আছে হামে আক্রান্ত ১৪৭ শিশু। এর মধ্যে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ৭৯, চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৭, পেকুয়াতে ৫, উখিয়াতে ১৫, টেকনাফে ৮, রামুতে ৭, মহেশখালীতে ১৬ শিশু।



