পাবনা জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। মাত্র ৩৬ শয্যার এই ওয়ার্ডে প্রতিটি শয্যায় দুই থেকে তিনজন করে রোগী রাখা হচ্ছে। মেঝে ও করিডোরেও জায়গা নেই। রোগীর স্বজনরা একটি সিটের জন্য হাহাকার করছেন।
শয্যা সংকটে রোগীদের দুর্দশা
২৫০ শয্যার পাবনা জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থেকে ২৬০ জন রোগী ভর্তি থাকছে। এর মধ্যে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬২ এবং অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ১৯০ জন। শিশু ওয়ার্ডের মেঝে, করিডোর, গাইনি ওয়ার্ড এবং স্ক্যানু ইউনিটের করিডোরের দুপাশেও কোনো ফাঁকা জায়গা নেই।
সাঁথিয়া উপজেলার বনগ্রামের পাঁচ মাসের শিশু তালহা আট দিন আগে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তার মা মিম জানান, অনেক কষ্ট করে আজ করিডোরে জায়গা পেয়েছেন। সদর উপজেলার দক্ষিণ রামচন্দ্রপুর গ্রামের পাপ্পু তার ১৩ মাসের শিশু মানহাকে পাঁচ দিন আগে হাসপাতালে নিয়ে এলেও এখনো কোনো সিট পাননি।
চিকিৎসকদের বক্তব্য
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, শয্যা সংখ্যা মাত্র ৩৬টি, কিন্তু প্রতিদিন দুই শতাধিক শিশু রোগী ভর্তি থাকে। শয্যা সংকটে অধিকাংশ রোগীকে মেঝেতে বা করিডোরে রাখতে হয়। হামের কারণে সমস্যা আরও বেড়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় হাম আক্রান্ত ৩৩ শিশু ভর্তি হয়েছে।
সহকারী পরিচালক ডা. রফিকুল হাসান বলেন, হাসপাতালে মোট শয্যা ২৫০, কিন্তু রোগী ভর্তি থাকে ছয়শ। হামের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করলেও রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছি। বিদ্যমান অবকাঠামোতে শয্যা সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব নয়।
দীর্ঘদিনের সমস্যা
১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত পাবনা জেলার ৩২ লাখ মানুষের চিকিৎসার জন্য একমাত্র সরকারি বড় হাসপাতাল এটি। এক যুগ আগে মেডিকেল কলেজ হলেও এখনো মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালু হয়নি। দুই বছর আগে রাষ্ট্রপতির প্রচেষ্টায় নির্মাণ কাজ শুরু হলেও তা শেষ হয়নি। ফলে চিকিৎসা ব্যবস্থা শোচনীয় অবস্থায় পড়েছে।



