কামরাঙ্গীচরে কর্মচারী হোস্টেলে গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার, পুলিশ তদন্তে
রাজধানীর কামরাঙ্গীচর এলাকায় একটি কর্মচারী হোস্টেলের বাথরুম থেকে ইয়াকুব আলী (২৫) নামে এক শ্রমিকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় সম্প্রদায়কে স্তম্ভিত করেছে।
ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধার প্রক্রিয়া
কামরাঙ্গীচর লেকপাড় এলাকায় অবস্থিত ম্যাটাডোর গ্রুপের এমপ্লয়িজ হোস্টেলের বাথরুমে রক্তাক্ত অবস্থায় ইয়াকুব আলীকে পড়ে থাকতে দেখে তার সহকর্মীরা। তারা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন, এবং রাত ২টা ৫৫ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর সময় নথিভুক্ত করা হয়।
হাসপাতালে নিহতকে নিয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানের সহকারী ম্যানেজার বজলুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, "নিহতের গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে, তবে কীভাবে এই ঘটনা ঘটেছে তা এখনও অজানা।" ঘটনাস্থলে তদন্তের জন্য পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।
পুলিশের তদন্ত ও পরিবারের প্রতিক্রিয়া
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক নিশ্চিত করেছেন যে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, "এই ঘটনা হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা বিস্তারিত তদন্ত শেষেই স্পষ্ট হবে। সংশ্লিষ্ট থানাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।"
নিহত ইয়াকুব আলী মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার আড়ালিয়া গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে ছিলেন। তিনি কোম্পানির হোস্টেলে অবস্থান করতেন এবং তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন। সংবাদ পেয়ে তার বড় ভাই মো. আরফান হাসপাতালে এসে মরদেহ শনাক্ত করেন এবং দাবি করেন যে তার ভাইকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।
বজলুর রহমান আরও যোগ করেন, "নিহতের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে, এবং তারা এলে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হবে। আমরা এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং তদন্তে সহযোগিতা করব।" এই ঘটনা কর্মচারী হোস্টেলগুলির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, এবং কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে।



