পাবনা মানসিক হাসপাতালে অবাধ প্রবেশ ও রোগী নির্যাতনের ঘটনা
দেশের একমাত্র বিশেষায়িত পাবনা মানসিক হাসপাতালে বর্তমানে একটি উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটররা রোগী দেখার নাম করে অবাধে হাসপাতালে ঢুকছেন। তারা শুধু প্রবেশ করেই থেমে থাকছেন না, বরং রোগীদের উত্ত্যক্ত করে অপমানজনক ভিডিও তৈরি করছেন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ঘুষের মাধ্যমে নিরাপত্তা ভেদ
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের ঘুষ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছেন এই ব্যক্তিরা। অনুসন্ধানের সময় ক্যামেরাবন্দি করা হয় যে, জনপ্রতি ৫০ টাকা দিয়ে দর্শনার্থীরা হাসপাতালে ঢুকছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই ঘুষের টাকা একটি সিন্ডিকেটের পকেটে চলে যাচ্ছে, যা একটি সংগঠিত দুর্নীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রোগীদের উপর মারাত্মক প্রভাব
হাসপাতালটির মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এ কে এম শফিউল আজম এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ড মানসিক রোগীদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। টিকটকাররা এসে রোগীদের অতীতের দুঃখ-দুর্দশার কথা মনে করিয়ে দেয়, যা তাদের মানসিকভাবে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এটি চিকিৎসা প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে।’
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ
হাসপাতালটির পরিচালক শাফকাত ওয়াহিদ জানান, এই ঘটনা নিয়ে হাসপাতালের পক্ষ থেকে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দুজন আনসার সদস্যকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে যারা ঘুষ লেনদেনে জড়িত ছিলেন বলে প্রমাণিত হয়েছে। তবে, এই সমস্যা সমাধানে আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি।
এই ঘটনা মানসিক স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। রোগীদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা রক্ষায় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।



