কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দুর্বৃত্তদের হামলায় স্বেচ্ছাসেবক নেতাসহ ১০ জন গুলিবিদ্ধ
কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলায় এক মর্মান্তিক হামলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাসহ অন্তত ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়াড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে ১১টার দিকে এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারে মরিচা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম (৩৬) নিজ বাড়ির সামনে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এ সময় ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল হঠাৎ তাঁর ওপর হামলা চালায়। রবিউলের চিৎকার শুনে তাঁর মা–বাবা ও আশপাশের লোকজন ছুটে যায়, এবং হামলাকারীরা তখন এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে।
এই গুলিবর্ষণের ফলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত নারী-পুরুষসহ রবিউলের পরিবারের সদস্যরা গুলিবিদ্ধ হন। পরে হামলাকারীরা দ্রুত এলাকা থেকে পালিয়ে যায়, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক করে তোলে।
আহত ব্যক্তিদের তালিকা
আহত ব্যক্তিরা হলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রবিউল ইসলাম (৩৬), তাঁর বাবা হাফেজ প্রামাণিক (৭০), সোহেল রানা (৪৫), তমা খাতুন (২৬), কামরুল ইসলাম (৩৭), মুন্নি খাতুন (২৪), রুনা খাতুন (২৭), মিতা খাতুন (৩০), তৌহিদুল ইসলাম (৩০) ও তাঁর স্ত্রী মেরিনা খাতুন (২৫)। এদের মধ্যে রবিউল ইসলাম গুরুতর আহত অবস্থায় রয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
হামলার কারণ ও তদন্ত
হামলার বিষয়ে রবিউল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। হাসপাতালে উপস্থিত তাঁর মামা লিয়াকত আলী জানান, হামলার কারণ সম্পর্কে তাঁরা কিছুই জানেন না এবং কারা এই হামলা চালিয়েছে তা-ও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘আমার ভাগনের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। রাতে হঠাৎ করেই ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল এসে হামলা চালায়। তাঁর চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে সবাইকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে অন্তত ১০ জন গুলিবিদ্ধ হন।’
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, রাতে মরিচা ইউনিয়নে কয়েক রাউন্ড গুলির ঘটনা ঘটেছে, যাতে ১০ জন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, হামলার কারণ এখনো জানা যায়নি এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। থানায় মামলা নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারে হামলা হওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানাচ্ছেন। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে তারা ঘটনা তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।



