টেলিকম টাওয়ার সংগঠনের জরুরি দাবি: জ্বালানি সংকটে ঝুঁকিতে ডিজিটাল অর্থনীতি
টেলিযোগাযোগ খাতকে জরুরি সেবার আওতায় এনে বিশেষ জ্বালানি বরাদ্দের জোরালো দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ টাওয়ারকো অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ)। সংগঠনটি সতর্ক করে দিয়েছে যে, নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে এবং জাতীয় পর্যায়ে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিটিএ এই উদ্বেগজনক বার্তা তুলে ধরেছে।
জ্বালানি ঘাটতির সরাসরি প্রভাব
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্প্রতি এক আলোচনায় এই বিষয়টি জোর দিয়ে উপস্থাপন করেছে বিটিএ। নির্বিঘ্ন টেলিযোগাযোগ সেবা নিশ্চিত করতে সংগঠনটি বিশেষ জ্বালানি বরাদ্দকরণের পাশাপাশি গুরুত্বসহকারে বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বিটিএর মতে, দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি হলো টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো, যার কেন্দ্রে রয়েছে টেলিকম টাওয়ার। সারা দেশে ৪৫ হাজারেরও বেশি টেলিকম টাওয়ার বিদ্যমান, যা বিদ্যুৎ গ্রিড এবং জ্বালানিনির্ভর ব্যাকআপ ব্যবস্থার (জেনারেটর) ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল। ফলে চলমান জ্বালানি সংকট এখন সরাসরি প্রভাব ফেলছে এই গুরুত্বপূর্ণ খাতে। জ্বালানি ঘাটতির কারণে নিরবচ্ছিন্ন সেবা ব্যাহত হয়ে সংযোগে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে, যা কোটি গ্রাহককে ভোগান্তিতে ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
বিটিএর অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি ও ইডটকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর সুনীল আইজ্যাক বলেন, ‘বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ সেবা এখন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে আছে। নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে হলে এ খাত যেকোনো মূল্যে সচল রাখা প্রয়োজন। আর তাই গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোকে জরুরি সেবার আওতায় এনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘ছোট-বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ব্যাংক, আইটি সহ সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটাল সংযোগের ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে ক্ষতির সম্মুখীন হবে প্রতিটি সেক্টর। তাই ঝুঁকি এড়াতে করণীয় ও চলমান সংকটের বাস্তবিক সমাধান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’
অর্থনৈতিক প্রভাবের সম্ভাবনা
বিটিএর এই দাবি উঠে এসেছে এমন এক সময়ে যখন দেশ জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি। সংগঠনটি জোর দিয়ে বলেছে যে, টেলিকম টাওয়ারগুলোর সচলতা না থাকলে শুধু যোগাযোগ নয়, ডিজিটাল লেনদেন, অনলাইন শিক্ষা, দূরবর্তী স্বাস্থ্যসেবা এবং ই-কমার্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলোও ব্যাহত হবে। এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং বেকারত্ব বৃদ্ধির মতো নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে পারে।
সংগঠনটি সরকারের কাছে জরুরি ভিত্তিতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলোর দাবি জানিয়েছে:
- টেলিযোগাযোগ খাতকে জরুরি সেবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা।
- টেলিকম টাওয়ারগুলোর জন্য বিশেষ জ্বালানি কোটা বরাদ্দ নিশ্চিত করা।
- বিদ্যুৎ সরবরাহের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা।
- জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় টেলিকম কোম্পানিগুলোর সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাওয়া।
বিটিএর এই উদ্যোগটি দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকার যদি দ্রুত এই বিষয়ে সাড়া দেয়, তবে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সংকট এড়ানো সম্ভব হতে পারে।



