মানবিক বিবেচনায় জামিন পেলেন যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম
যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগমের জামিন মঞ্জুর

মানবিক বিবেচনায় জামিন পেলেন যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান মানবিক বিবেচনায় যুব মহিলা লীগের নেত্রী শিল্পী বেগমের জামিন মঞ্জুর করেছেন। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে শুনানি শেষে এই আদেশ দেওয়া হয়। শিল্পী বেগমের দেড় মাস বয়সী ছেলেসন্তান রয়েছে, যা আদালতের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আদালতের সিদ্ধান্ত ও আইনজীবীর বক্তব্য

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, 'আদালত পাঁচ হাজার টাকা বন্ডে জামিন মঞ্জুর করেছেন। বেলবন্ড প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি। আশা করা হচ্ছে, আগামীকাল বুধবার বিকেলের মধ্যেই তিনি জেল থেকে মুক্তি পাবেন।' এর আগে বিস্ফোরক আইনের মামলায় শিল্পী বেগমের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছিল, যা এবারের সিদ্ধান্তকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

মামলার পটভূমি ও কারাগারে পাঠানোর আদেশ

রাজধানীর তেজগাঁও থানায় বিস্ফোরক আইনে করা একটি মামলায় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেত্রী শিল্পী বেগমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদের আদালত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক শেখ নজরুল ইসলাম আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কারাগারে পাঠানোর আবেদন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মো. তাহমিদ মুবিন রাতুল। বিষয়টি জানাজানি হলে যুব মহিলা লীগের নেত্রী শিল্পী বেগমের নির্দেশে ২৩ জুলাই অজ্ঞাতনামা ১২০-১৩০ জন আসামি দেশীয় ধারালো অস্ত্র, পিস্তল ও বোমা নিয়ে তাঁর বাসায় হামলা চালায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হামলার বিস্তারিত ও ক্ষয়ক্ষতি

এই হামলায় ঘরের আসবাব ও ইলেকট্রনিক জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়, পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন হয় এবং বাসার বিভিন্ন মালামাল লুটপাট ও চুরি করে নিয়ে যায়, যার মূল্য তিন লাখ টাকা। হামলাকারীরা বাসার সামনে রাস্তার ওপর বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় এবং মারধরও করে। তদন্তে শিল্পী বেগমের ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ২০ এপ্রিল নিজ বাসা থেকে শিল্পী বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। মামলাটির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে জেলহাজতে আটক রাখা বিশেষ প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল।

এই ঘটনায় আদালতের মানবিক সিদ্ধান্তটি সমাজে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষত মাতৃত্বের প্রেক্ষাপটে আইনী প্রক্রিয়ার নমনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিল্পী বেগমের মুক্তি প্রক্রিয়া আগামীকাল সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে, যা এই মামলার পরবর্তী অগ্রগতির দিকে নজর রাখবে।