খুলনা মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন
খুলনা মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড ও আইসিইউ থেকে রোগী সরানোর সময় এক নারীর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার (২০ মে) দুপুরে এ কমিটি গঠন করা হয়। বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী মো. আইনুল ইসলাম।

কমিটির সদস্যরা

হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক দিলীপ কুমার কুন্ডুকে সভাপতি ও তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আখতারুজ্জামানকে সদস্যসচিব করে এ কমিটি গঠন করা হয়। অন্য সদস্যরা হলেন- সহযোগী অধ্যাপক ডা. জ্যোতির্ময় সাহা, সহকারী পরিচালক ডা. কাজী আহসান হাবিব এবং স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের প্রতিনিধি এস এম মেহেদী।

তদন্তের দায়িত্ব

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কমিটিকে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা, অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা

এর আগে সকালে হাসপাতালের বি ব্লকের দ্বিতীয় তলার ইমারজেন্সি ওটি ও পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডের স্টোররুম, চিকিৎসকদের বসার কক্ষ এবং অপারেশন থিয়েটারের কিছু অংশে অগ্নিকাণ্ড ও ক্ষয়ক্ষতি হয়। আগুন থেকে রক্ষার জন্য নিরাপদ স্থানে সরাতে গিয়ে একজন রোগীর মৃত্যু হয়। নিহত রোগীর নাম নাসরিন নাহার। তিনি খুলনার কয়রা উপজেলার নেছার আলীর মেয়ে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নাসরিন নাহার আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আগুন লাগার পর দ্রুত বাইরে নেওয়া হলে হাসপাতালের বারান্দায় তার মৃত্যু হয়। একই আইসিইউতে থাকা শেখ আবুল হাসেম (৯৬) নামের দিঘলিয়া উপজেলার আরেক রোগী আগুন লাগার আগেই ভোর ৫টার দিকে মারা যান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আগুনের সূত্রপাত ও নিয়ন্ত্রণ

ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, আজ ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হাসপাতালের চারতলা ভবনের তৃতীয় তলায় পুরোনো আইসিইউ ইউনিটের পাশের একটি স্টোররুমে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

রোগী স্থানান্তর ও হতাহত

অগ্নিকাণ্ডে হাসপাতালের ১ নম্বর আইসিইউতে থাকা ১৫ রোগীকে দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। ধোঁয়া ও আতঙ্কের মধ্যে রোগী স্থানান্তরের সময় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ দিলীপ কুমার বলেন, ‘পুরোনো আইসিইউ ভবনের পাশের একটি কক্ষে আগুন লাগে। সেখানে পুরোনো কাপড় ও কিছু সরঞ্জাম রাখা ছিল। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েকটি অক্সিজেন সিলিন্ডার ও পুরোনো এসি বিস্ফোরিত হয়। এতে দেয়ালের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পুরো এলাকায় ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ার মধ্যে আমরা রোগীদের স্থানান্তর করছিলাম। এ সময় আতঙ্কিত হয়ে নাসরিন নাহার নামের রোগীর স্বজনরা তাকে নিজেরাই সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। বাইরে নেওয়ার পর সেই রোগী মারা যান। আইসিইউ থেকে রোগী স্থানান্তরের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে। ভেন্টিলেশন খুলে নিজেরা নেওয়ার চেষ্টার কারণে ওই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।’

আগুন থেকে বাঁচতে গিয়ে দুই নার্সসহ পাঁচ জন আহত হন। তারা হলেন হাসপাতালের স্টাফ সাইদুর রহমান (৫০), সিনিয়র স্টাফ নার্স নওরিন, দিপালী ও শারমিন এবং ফায়ার সার্ভিস সদস্য তৌহিদ। তাদের মধ্যে দুই নার্সকে একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রাথমিক ধারণা

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা হোসেন আলী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শর্টসার্কিট বা এসি বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্তের পর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক সরকার মো. মাসুদ সরদার বলেন, ‘সকাল ৬টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে বয়রা স্টেশন থেকে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরে আরও ইউনিট যোগ দেয়। মোট ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে অংশ নেয়। কীভাবে আগুন লেগেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’